Showing posts with label Open Source. Show all posts
Showing posts with label Open Source. Show all posts

ফোনের মূল্য যত কমতে থাকে তাদের ডিজাইনও তত খারাপ হতে থাকে। বাজারে থাকা অধিকাংশ স্মার্টফোনের বেলায় কথাটা সত্য হলেও ওবিআই ওয়ার্ল্ডফোন এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা জন স্কালি এবং অ্যামুনেশন ডিজাইনের প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট ব্রানার বলছেন ভিন্ন কথা।

 সম্প্রতি ওবিআই ওয়ার্ল্ডফোন উন্মুক্ত করতে যাচ্ছে তাদের নতুন ডিজাইনের দুটি মিড-লেভেল স্মার্টফোন, এসএফ১ এবং এসজে১.৫। দুটি ফোনের মুল্যই ২০০ ডলারের মধ্যে।

আর চমৎকার এই নতুন ডিজাইনের ফোন দুটির প্রধান ক্রেতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এশিয়া, আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের দশ থেকে পঁচিশ বছর বয়সী তরুণদেরকে।

চমৎকার ডিজাইনের সাথে এ ফোন দুটিতে থাকছে শক্তিশালী হার্ডওয়্যার এবং চমকপ্রদ অনেক ফিচার (কোয়ালকম এবং মিডিয়াটেক প্রসেসর, সনি ক্যামেরা, কর্নিং গোরিলা গ্লাস এবং ডলবি সাউন্ড)।

কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি ফোনের যে ফিচারের উপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তা হল ফোনের ডিজাইন এবং অ্যান্ড্রয়েডের মডিফাইড ভার্শন।

২০১১ সালের দিকে ইসরায়েলি মোবাইল কোম্পানি Modu থেকে মডিউলার স্মার্টফোনের কনসেপ্ট কেনার পর ২০১৩ সালের ১লা এপ্রিল থেকে ঐ প্রোজেক্টের উপর কাজ শুরু করে গুগল।

পরবর্তীতে গুগল তাদের এই প্রোজেক্টের নাম দেয় প্রোজেক্ট এআরএ। এই প্রোজেক্ট বাস্তবায়ন হলে ব্যবহারকারীরা তাদের স্মার্টফোনটিকে ইচ্ছেমত কাস্টমাইজ করতে পারবে। ক্যামেরা, প্রসেসর, ব্যাটারি, স্টোরেজ এবং স্মার্টফোনের অন্যান্য সব কম্পোনেন্ট মডিউলের মাধ্যমে পরিবর্তন করে নেয়া যাবে। যেমনটা আমরা আমাদের কম্পিউটারের সাথে করে থাকি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী এবছরের শেষের দিকে ল্যাটিন অ্যামেরিকার পুয়ের্তো রিকায় প্রোজেক্টটি উন্মুক্ত করার কথা থাকলেও গেল সপ্তাহে এক টুইটে বলা হয়, ‘কোম্পানি প্রোজেক্টটি নিয়ে এখনও কিছুটা ব্যস্ত সময় পার করছে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রোজেক্টটি আর ল্যাটিন আমেরিকায় উন্মুক্ত করা হচ্ছে না।’

তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গুগল বেশ কিছু টুইটের মাধ্যমে জানিয়ে দেয় তারা যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে লঞ্চ লোকেশন খুঁজছে। কিন্তু এর পরেই আবার #yeswearelate হ্যাসট্যাগের সাথে একটা প্রশ্নও জুড়ে দেয় “When? 2016″।

যাইহোক, মোবাইলটি কবে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হবে এ নিয়ে এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোন সময় জানা যায়নি। তবে ২০১৬ সালেই যে উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে গুগলের প্রোজেক্ট এআরএ এতে কোন সন্দেহ নেই
যারা ল্যাপটপে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, তাঁদের কাছে ভাইরাস এক মূর্তিমান আতঙ্ক। তবে অন্য কারণেও প্রিয় ল্যাপটপ ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে।ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে চাই সচেতনতা ও নিয়মিত ল্যাপটপের পরিচর্যা।
বর্তমানে ইন্টারনেটে কিছু ভুয়া অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার আছে, যেগুলো মূলত ভাইরাস। ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় হঠাৎ করে হয়তো কোনো বার্তা দেখবেন, আপনার কম্পিউটার ভাইরাসে ভর্তি হয়ে গেছে, এক্ষুনি ভাইরাসগুলো দূর না করলে ভীষণ বিপদ ঘটে যাবে! এমনকি আপনার কোন ড্রাইভে কী কী নামের কতটি ভাইরাস আছে, কোন ড্রাইভের কত শতাংশ জায়গা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে, তা-ও নির্দিষ্ট করে দেখিয়ে দেবে এসব বার্তা।
ভুলেও এ ধরনের ফাঁদে পা দেবেন না। এই বার্তায় ক্লিক করা মানেই ল্যাপটপের সর্বনাশ ডেকে আনা।
রিমুভাল ড্রাইভ (পেনড্রাইভ, মেমোরি কার্ড, ডেটা কেব্ল, হার্ডডিস্ক ইত্যাদি) দিয়ে তথ্য আদন-প্রদানের সময় ল্যাপটপ সবচেয়ে বেশি ভাইরাসের কবলে পড়ে। এসব ল্যাপটপে প্রবেশ করালে অবশ্যই অ্যান্টিভাইরাস দিয়ে স্ক্যান করে নিতে হবে।
অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার কম্পিউটারে ইনস্টল করাই শেষকাজ নয়।নিয়মিত অ্যান্টিভাইরাস হাল নাগাদ করে নিতে হবে।
রিমুভাল ডিস্ক কখনো ফোল্ডারের মতো দুই ক্লিকে খুলবেন না, এতে ভাইরাস ছড়াতে পারে। ডান ক্লিক করে ফোল্ডার অপশনে ক্লিক করে খুলবেন।
রিমুভাল ডিস্ক কম্পিউটার থেকে বিচ্ছিন্ন করার সময় সব সময় ইজেক্ট ডিস্কে ক্লিক করতে হবে না।চালু থাকা সব ধরনের ট্যাব বন্ধ করে খুলে ফেলুন।
আমরা অনেকে ভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মনে করি দু-তিনটি অ্যান্টিভাইরাস ইনস্টল করে রাখলে মনে হয় রক্ষা পাওয়া যাবে, এটি একদম ভুল ধারণা। একটির বেশি অ্যান্টিভাইরাস ইনস্টল করবেন না।এতে কম্পিউটার ধীর গতির হয়ে থাকে।
অযথা সফটওয়্যার ইনস্টল করা থেকে বিরত থাকুন। মনে রাখবেন, সফটওয়্যারের সঙ্গে ভাইরাস আপনার কম্পিউটারে প্রবেশ করতে পারে।
ল্যাপটপের ব্লু-টুথ সক্রিয় রাখবেন না। কাজ শেষে ব্লু-টুথ অবশ্যই বন্ধ রাখবেন।
সার্ভারে যুক্ত এমন ল্যাপটপে সব ধরনের কাজ করবেন না, তাহলে ভাইরাসের আক্রমণের শিকার হতে পারেন। দরকার হলে একটি ভালো লাইসেন্সপ্রাপ্ত অ্যান্টিভাইরাস ইনস্টল করে নেবেন এবং নিয়মিত নেট থেকে হালনাগাদ করে নিন। অটো আপডেট সুবিধা এনাবল (সক্রিয়) করে রাখবেন।
রানে গিয়ে টেম্প ফাইলগুলো মুছে দিন।অনেক দিন জমা পড়ে থাকলে এগুলোও ভাইরাসে রূপ নিতে পারে। কোনো ফাইল মুছতে না পারলেআনলকার নামের সফটওয়্যার দিয়ে প্রথমেই ফাইলটিকে আনলক করে নিন, তারপর ডিলিট করুন।
ইন্টারনেটে সব ধরনের ওয়েবসাইটে না যাওয়াই ভালো।মেইলের নানান স্প্যামযুক্ত ই-মেইলগুলো খুলবেন না।
অ্যান্টিভাইরাসও মাঝেমধ্যে ভাইরাস হয়ে যায়, যদি আপনি অনেক দিন কম্পিউটার ফেলে রাখেন, ব্যবহার না করেন।
ল্যাপটপে পেনড্রাইভ প্রবেশ করালে অটো প্লে সুবিধা বন্ধ রাখুন।


ভাইরাস ভাইরাস করেই অপারেটিং সিস্টেম দিতে যাবেন না, আগে প্রাথমিক কাজগুলো নিয়মিত করুন, তাহলেই হয়ে যাবে।

 সম্ভব হলে মুক্ত অপারেটিং সিস্টেম লিনাক্স ব্যবহার শুরু করুন।


বেশ কিছু অর্থ খরচ করে শখের জিনিসটি কিনতে গেলে নানা দোটানায় পড়তে হয়। এটা ভালো হবে তো, নাকি ওটা? এমন আরো অনেক প্রশ্ন। এ যুগে অতিপ্রিয় মোবাইল ফোনসেট কেনার সময় তো চিন্তার শেষ নেই। তাই আপনাদের মস্তিষ্কের চাপ কিছুটা কমিয়ে দিতে মোবাইল ফোনসেট কেনার ১৯টি টিপস দেওয়া হলো।

১. ডিজাইন নিয়ে একটু চিন্তা করুন

স্মার্ট ফোনের ক্ষেত্রে ডিজাইনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ বিষয়ে কারো কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়ার কিছু নেই। এটা একান্ত নিজের রুচির ব্যাপার। বাজারের সব স্মার্ট ফোনের নজরকাড়া ডিজাইন রয়েছে। আবার বিভিন্ন কেস রয়েছে ফোনটিকে আরো আকর্ষণীয় করার জন্য। কাজেই নিজের ব্যক্তিগত চাহিদা এবং রুচি অনুযায়ী ডিজাইন পছন্দ করাই ভালো।

২. ওজন এবং অনুভূতি

মোবাইল ফোনসেটের এ বৈশিষ্ট্য নিয়ে কেউ তেমন মাথা ঘামায় না। অনেক ফোন আছে যা পকেটে থাকলে আপনি বুঝতেই পারবেন না যে কিছু একটা রয়েছে। মোবাইল ফোনসেট যত বড় হয় সাধারণত এর ওজনও তত বেশি হয়। তবে এসব দেখার আগে খেয়াল করবেন ফোনসেটে ব্যাটারি লাগানো রয়েছে কি না। কারণ ব্যাটারির ওজনটিও বেশ হয়।

৩. পর্দার আকারটিই সবকিছু নয়

স্ক্রিনের আকারটি সবাই দেখেন নতুন মোবাইল কেনার সময়। এখন বড় স্ক্রিনের মোবাইল বেশি জনপ্রিয়। তবে সহজে বহন করতে চাইলে ছোট পর্দার মোবাইল নেওয়া উচিত। চার ইঞ্চি বা সাড়ে চার ইঞ্চি বা পাঁচ ইঞ্চি পর্দার মোবাইল ফোনেরও বেশ চাহিদা রয়েছে।

৪. ডিসপ্লের গুণগত মান

পর্দার গুণগত মান অনেক প্রয়োজনীয় বিষয়। সবচেয়ে ভালো মানের ডিসপ্লে ১০৮০পি (১৯২০ x ১০৮০ পিক্সেলস)। তবে এই ডিসপ্লেযুক্ত ফোনের দামটিও বেশ চড়া হবে। খেয়াল করে দেখতে হবে ভিন্ন ভিন্ন কোণ থেকে দেখলে ছবি পরিষ্কার দেখা যায় কি না। সাধারণ মানের মোবাইলের ডিসপ্লে ৭২০পি-এর কম হয়ে থাকে।

৫. অপারেটিং সিস্টেম

মৌলিক কয়েকটি অপারেটিং সিস্টেম রয়েছে। অ্যান্ড্রয়েড এখনকার সবচেয়ে জনপ্রিয় সিস্টেম। এদিকে আইফোনের রয়েছে আইওএস যার সাম্প্রতিকতম সংস্করণ হলো আইওএস ৭। আবার উইন্ডোজ অপারেটিংয়ের ভক্তের সংখ্যাও নেহায়েতই কম নয়। পছন্দেরটি বেছে নিন। কারণ অপারেটিং সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করেই গোটা ফোনের সব কার্যক্রম নির্ধারিত হয়।

৬. থ্রি-জি নাকি ফোর-জি

আমাদের দেশে সবেমাত্র থ্রি-জি কানেকশন চালু হয়েছে। ডাটা কানেকশনের গতি নির্ভর করে এর ওপর। আরো দ্রুত কানেকশন দেয় ফোর-জি। এ যুগের স্মার্ট ফোনের জন্য থ্রি-জি কানেকশন নিতে পারে এমন মোবাইল বেশি ভালো।

৭. ব্যাটারির শক্তি

ব্যাটারির শক্তি নির্ধারিত হয় মোবাইল ফোনটি কেমন তার ওপর ভিত্তি করে। তবে বড় মাপের স্ক্রিনের মোবাইল বেশি ব্যাটারি শক্তি ক্ষয় করে। তাই শক্তিশালী ব্যাটারি প্রয়োজন হবে মোবাইলটি অনেক সময় ধরে চালু রাখার জন্য। এখন ৩০০০ এমএএইচ সবচেয়ে বেশি শক্তির ব্যাটারি হিসেবে বাজারে চালু রয়েছে।

৮. সফটওয়্যার আপডেট রাখা

ফোনের সফটওয়্যার প্রতিনিয়ত আপডেট হচ্ছে। আপনিও যদি নিজের ফোনের সফটওয়্যারগুলো আপডেট রাখেন তাহলে যন্ত্রটি সুন্দরমতো কাজ করবে। নয়তো নানা ভেজাল করবে যেকোনো কাজ করতে। নতুন কোনো অ্যাপস সাপোর্ট করবে না এবং ফোনটি ধীরগতির হয়ে যাবে।

৯. ২ জিবি র‌্যাম নেওয়ার চেষ্টা করুন

ফোনের কার্যক্রমে দ্রুততা দেবে র‌্যাম। ফোন কিনতে বেশ কিছু অর্থ ব্যয় করলে এক জিবি র‌্যামই যথেষ্ট। তবে অল্প কিছু অর্থযোগে বা পছন্দ পরিবর্তনে ২ জিবির ব্যবস্থা করা গেলে অনেক ভালো। আধুনিক মোবাইলগুলো ৩ জিবি পর্যন্ত র‌্যাম নিয়ে বাজারে আসছে।

১০. ক্যামেরা রেজ্যুলেশন অতি দরকারি নয়

ক্যামেরা রেজ্যুলেশনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে একটিও নয়। কারণ ভালো মানের ছবি তোলার কাজ ক্যামেরার, মোবাইল ফোনের নয়। বেশি রেজ্যুলেশনের মোবাইল ক্যামেরার ছবি কিছুটা ভালো আসে। কিন্তু তা ক্যামেরার মতো নয়। তাই অন্য বিষয় বাদ দিয়ে ফোনে ক্যামেরা রেজ্যুলেন বেশি খোঁজাটা বোকামি।

১১. শক্তপোক্ত ফোন

স্মার্ট ফোনের জন্য তা কতটা শক্তপোক্ত তা জরুরি বিষয়। তা ছাড়া পর্দাতে সহজে দাগ যেন না পড়ে সে জন্য স্ক্র্যাচ রেজিস্ট্যান্ট গ্লাস রয়েছে অনেক ফোনে। হাত থেকে পড়ে গেলেই ভেঙে বা ফেটে যাবে না, অন্তত তেমন তো হতে হবে ফোনটিকে।

১২. ব্লু টুথ বেশ জরুরি

যাই কিনুন, দেখে নিন ব্লু টুথ রয়েছে কি না। এটি একটি দারুণ জিনিস। ব্লু টুথ ছাড়া অন্য কোনো মোবাইলের সঙ্গে আপনি কিছুই লেনদেন করতে পারবেন না। এখনকার দামি সব ফোনেই ব্লু টুথ রয়েছে। তবে কমদামি মোবাইল কিনতে গেলে একটু দেখে নিন তা রয়েছে কি না।

১৩. এনএফএস থাকলে ভালো

এনএফএস বা নেয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন বেশ প্রয়োজনীয় বিষয়। অন্য কোনো স্মার্ট ফোন বা ট্যাবের মধ্যে ডাটা আদান-প্রদানের জন্য এনএফএস দরকার হয়। এ ছাড়া আপনার কেনাকাটার জন্য কোনো ডিজিটাল ওয়ালেট অথবা দাম পরিশোধের সাপোর্টেড প্রসেসর থাকলে তার ব্যবহার এনএফএস-যুক্ত মোবাইল সহজ করে দেবে। অ্যাপলের নিজস্ব এনএফএস প্রযুক্তি রয়েছে, যার নাম এয়ারড্রপ।

১৪. ঝামেলাবিহীন চার্জের জন্য ওয়্যারলেস চার্জিং

তার ছাড়া চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা অবশ্য খুব প্রয়োজনীয় কিছু নয়। তবে যেখানে সেখানে প্লাগ পয়েন্ট না থাকার সমস্যায় ওয়্যারলেস চার্জিং সিস্টেম বেশ মজার বিষয়।

১৫. পপুলার রিভিউ ও রেটিং সাইট ব্যবহার করুন

ইন্টারনেট থাকলে নানা সাইটে ঢুঁ মারতেই হয়। তবে ম্যালওয়্যারের আক্রমণ থেকে বাঁচতে পপুলার রিভিউ ও রেটিং সাইটে ঘোরাফেরা করবেন। নইলে বিপদ।

১৬. অ্যাক্সেসরিজ

অ্যাক্সেসরিজ সব মোবাইলের সঙ্গেই দেওয়া হয়। তবে অ্যাক্সেসরিজ দেখে ফোন পছন্দ করার দরকার নেই। স্মার্ট অ্যাক্সেসরিজ বেশ আকর্ষণীয় দেখায়। ভালো মানের ফোনের অ্যাক্সেসরিজও বেশ ভালো হয়।

১৭. দাম

এটা আসল বিষয়। এমনিতেই মোবাইল ফোনসেটের দাম যত বেশি হবে, তার সবকিছুই তত ভালো হবে। তবে মোবাইল ফোনসেট কেনার আগে একই মডেলের অন্য কোনো সংস্করণ খুব শিগগিরই বাজারে আসলে তা থেকে কোনো সুবিধে পান কি না ভেবে নিতে হবে।
 

১৮. কন্ট্রাক্ট ফোন নেওয়ার জন্য


ইউরোপ-আমেরিকাতে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিভিন্ন শর্তের ভিত্তিতে মোবাইল ফোনসেট কেনার ব্যবস্থা রয়েছে। আমাদের দেশেও অপারেটর প্রতিষ্ঠানগুলো এমন অফার দিয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি সুবিধা দিচ্ছে এবং মোবাইলগুলোর মডেলের সঙ্গে দাম ও সুবিধাগুলোর তুলনা করে নিজের পছন্দ অনুযায়ী নেবেন।
 

১৯. অ্যাপ্লিকেশন


মোবাইল ফোনসেটেরর অ্যাপস প্রতিনিয়ত এত বেশি বানানো হচ্ছে যে, পছন্দ করতে গেলে আপনার মাথা খারাপ হওয়ার জোগাড় হবে। ইচ্ছামতো অ্যাপস ডাউন লোড করে ব্যবহার করুন। শুধু একটি বিষয় নজরে রাখবেন। মোবাইল ফোনসেটটি যেসব অ্যাপস সাপোর্ট করে তাই ব্যবহার করুন। আর যেসব অ্যাপস আপনার মোবাইলের জন্য নয় তা অবশ্যই কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন না। তা ছাড়া মোবাইল ফোনসেট অনুযায়ী আলাদাভাবে অ্যাপসের কালেকশন ইন্টারনেটে দেওয়া থাকে। সেখান থেকেই ফোনটির জন্য অ্যাপস বাছাউ করে নেওয়া উচিত।
একুয়ারিস ই৪.৫ – উবুন্টু ফোন


উবুন্টু অনেক বছর ধরেই স্মার্টফোন এবং স্মার্টডিভাইস মার্কেটে প্রবেশের চেষ্টা করে আসছে। তবে তাদের এই চেষ্টা সত্ত্বেও, খুব একটা সফল তারা হয়ে উঠতে পারেনি কোনো ডিভাইস প্রস্তুতকারক কোম্পানিকে তাদের স্মার্টডিভাইসকেন্দ্রিক ওএস এর প্রতি আকৃষ্ট করতে। তবে তারা তারপরও হাল ছাড়েনি। দেড় বছর আগে তারা ক্রাউডসোর্সের মাধ্যমে উবুন্টু এজ নামে একটি স্মার্টফোন আনার চেষ্টা করেছিল যা কিনা একই সাথে স্মার্টফোন এবং ডেস্কটপের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। যদিও তা বিফলে যায় তাদের বিশাল ৩২ মিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য অর্জন করতে না পারায়।

তবে উবুন্টু আবার স্মার্টডিভাইস প্রস্তুতের মাধ্যমে এই বাজারে প্রবেশ করার পরিকল্পনা করছে। অবশ্য তাদের এই ফোন তাদের প্রস্তাবিত উবুন্টু এজের মতন মনিটরের সাথে সংযোগ দিলে ডেস্কটপ কম্পিউটারে পরিনত হবে না। তাদের এই নতুন ফোন, যা কিনা একুয়ারিস ই৪.৫ নামে পরিচিত হবে, মূলত প্রথম দিককার ব্যবহারকারী এবং ডেভেলপারদের কথা চিন্তা করে প্রস্তুত করা। এই নতুন ফোন একটি নতুন কার্ড এর ন্যায় ইউজার ইন্টারফেস ব্যবহার করবে যা কিনা বর্তমান অ্যাপকেন্দ্রিক ওএস এর চেয়ে খানিকটা ভিন্ন।

উবুন্টু এই ফোন বিক্রির ক্ষেত্রে চায়নার বিখ্যাত ব্র্যান্ড শাওমি, যা কিনা বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ স্মার্টফোন প্রস্তুতকারক হিসেবে পরিচিত, তার বিক্রয় পদ্ধতি অনুসরন করার পরিকল্পনা করছে। অর্থাৎ তারা শাওমি এর মতন একাধিক ফ্ল্যাশ সেল করবে। এর মাধ্যমে তারা ফোন সরাসরি গ্রাহকের কাছে বিক্রয় করবে। ফলে ফোনের প্রস্তুতকরণের উপর চাহিদা অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহন করা সম্ভব হবে। উবুন্টুর এই সংস্করণের প্রস্তুতকারক ক্যানোনিক্যাল আগামী সপ্তাহ থেকেই ইউরোপে এই বিক্রয় ব্যবস্থা শুরু করবে। এটির মাধ্যমে দ্রুত ফিডব্যাক নিয়ে তার ফলাফল দিয়ে ওএস এ দ্রুত কাজ করাও সম্ভব হবে।

ক্যানোনিক্যালের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিশ্চিয়ান পারিনো বলেন, “এই একটি প্রতিষ্ঠিত পরিকল্পনা যা কিনা ফোনটি সঠিক মানুষের কাছে পৌছতে সাহায্য করে।” তিনি আরও বলেন যে, আমরা জানি আমরা পরিবেশকের কাছ থেকে সরে আসছি তবে আমরা এই পরিল্পনা নিয়েই এগোতে চাচ্ছি।”

নতুন এই উবুন্টু ফোন অ্যাপকে এইচটিমিএল৫ অথবা সরাসরি তার ন্যাটিভ কোড কিউএমএল এ চালাতে সক্ষম। তবে এর অপারেটিং সিস্টেম পুরো প্রক্রিয়াকে লুকিয়ে রাখতে সাহায্য করে এর ইন্টারফেসের মাধ্যমে। আর এর ইন্টারফেস সচরাচর অ্যাপ গ্রিড ভিউ এর পরিবর্তে থিম কার্ড পদ্ধতি অনুসরণ করে যার ফলে কিছু নির্দিষ্ট সুবিধা একেকটি কার্ড প্রদান করে। ক্যানোনিক্যাল একে স্কোপ বলে যা কিনা খানিকটা গুগলের কার্ড সিস্টেম ইউজার ইন্টারফেস গুগল নাও এর সোয়াইপ কে প্রয়োগ করে বাস্তবায়িত। এটিকে তারা স্কোপস নাম দিয়েছে।

ফোনের হোম স্ক্রিন এখানে হবে আজকের স্কোপ, যেখানে কিনা এমন সব উইজগেট থাকবে যা কিনা ব্যবহারকারী ফোনের সাথে সচরাচর যে কাজ করে থাকে তা তুলে ধরবে। এর মধ্যে থাকতে পারে আবহাওয়া বার্তা , সেদিনকার হেডলাইন অথবা অন্য কোন খবর, টুইটার বার্তা অথবা ব্যবহারকারীর যাদের সাথে সর্বোচ্চ যোগাযোগ করে তা।
উবুন্টু একুয়ারিস ই৪.৫

এছাড়া ডান দিকে সোয়াইপ করলে অন্যান্য স্কোপস এ যাওয়া যাবে যেমন,
  • মিউজিক স্কোপ, যা কিনা সাউন্ডক্লাউড এবং অন্যান্য মিউজিক স্ট্রিমিং সাইট থেকে গান লোদ করে দেখাবে। কোথায় কি কনসার্ট হচ্ছে তা দেখাবে সংকিক অ্যাপ দ্বারা।
  • ভিডিও স্কোপ, যা কিনা ইউটিউব এবং অন্যান্য ভিডিও সার্ভিসের ভিডিও দেখাবে।
  • ফটো স্কোপ, যা কিনা ব্যবহারকারীর সকল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে ছবি নিয়ে দেখাবে।
  • নিয়ার স্কোপ, যা কিনা আসেপাশের সকল প্রয়োজনীয় বিষয়ে তথ্য দিবে। যেমন কোথায় ট্রাফিক জ্যাম, কোথায় পাবলিক ট্রান্সপোর্ট পাওয়া যাবে এবং রেস্টুরেন্ট।
  • অ্যাপ স্কোপ, যা কিনা ক্যামেরা, ক্যালেন্ডার এবং অন্যান্য প্রোগ্রামে যেতে সাহায্য করবে।
ব্যবহারকারীরা তাদের নিজস্ব স্কোপও বানাতে পারবে এবং একটি নির্দিষ্ট সেবা তার নিজের স্কোপও পাবে চাইলে। এর মাধ্যমে ক্যাননিক্যালের মতে, ব্যবহারকারীরা যেমন কোন ধরনের বাধা ধরা ছাড়াই কাজ করতে পারবে ফোনে্, ডেভেলপাররা তেমন তাদের অ্যাপ কম খরচে স্কোপের মাধ্যমে তৈরি করতে পারবে যা কিনা একটি পুরনাঙ্গ অ্যাপের ন্যায় কাজ করতে পারবে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট পারিনো বলেন, আপনি যদি আরেকটা ওএস নিয়ে আসেন যার নিজের অ্যাপ এবং আইকন আছে তাহলে আপনার এবং অন্যান্য ওএস এর মধ্যে সত্যিকার অর্থে কোন পার্থক্য নেই। এতে আপনি শুধুমাত্র তখনই ডেভেলপারদের আকৃষ্ট করবেন যখন একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যবহারকারী আপনার ওএস ব্যবহার করবে। শুধুমাত্র তখন তারা আপনার ওএস জন্যে অ্যাপ বানানোর কথা চিন্তা করবে আর এতে আপনি ব্যবহারকারীর কাছে তখনই ভাল হবে যখন আপনার অ্যাপ ভাল হবে।
আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে এই মডেল থেকে বের হয়ে আসা এবং এমন একটি অভিজ্ঞতা দেয়া যা কিনা নিজের একটি অবস্থান তৈরি করে নিতে পারবে। সুতরাং আপনি যতই বেশি সেবা প্রদান করবেন আপনার ফোন ততই ভাল হবে। তবে কিছু সেবা এখন পাওয়া যাবে না যেমন ওয়াটসঅ্যাপ, স্কাইপ, এবং ইন্সটাগ্রামের কিছু নির্দিষ্ট ফিচার।
ক্যানোনিক্যাল এখানে লাভ করবে প্রতিষ্ঠানকে সাপোর্ট সার্ভিস প্রদান করে। এই ফোনটি মূলত প্রস্তুত করেছে স্প্যানিশ এক প্রতিষ্ঠান বিকিউ যাদের কিনা ইতোমধ্যে ফোনটির একটি অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ রয়েছে। বিকিউ মুলত প্রায় অজানা একটি ট্যাবলেট এবং ই-রিডার প্রস্তুতকারক।

ফোনটির স্পেসিফিকেশন তেমন আকর্ষণীয় নয়। ৪.৫ ইঞ্চি (৫৪০x৯৬০ রেজুলেশন) স্ক্রিন সাইজের এই ফোনে আছে ১.৩ গিগাহার্জ কোয়াড কোর কর্টেক্স এ৭ ভিত্তিক মিডিয়াটেক প্রসেসর, মালি ৪০০ জিপিউ, ১ গিগাবাইট র‍্যাম এবং ৮ গিগাবাইট ইন্টারনাল স্টোরেজ। ক্যামেরা হিসেবে আছে, ৮মেগাপিক্সেল রিয়ার এবং ৫ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা। ফোনে আরও ডাটা রাখতে এতে রয়েছে মাইক্রোএসডি কার্ড সাপোর্ট এছাড়া আছে ডুয়াল সিম সাপোর্ট। ব্যাকআপ দিতে এতে আছে ২১৫০ মিলি অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি। ফোনটির দাম পড়বে প্রায় ১৯৫ ডলার।

ফোনটি মুলত যারা নতুন কিছু অভিজ্ঞতা করতে চায় এবং উবুন্টুর ভক্তদের মধ্যে একটি যোগাযোগ তৈরি করতে পারে। তবে বিষয়টি দ্রুত এমন হতে পারে যখন এসকল ব্যবহারকারী অ্যাপ এর ন্যায় অভিজ্ঞতা এই ফোনগুলো থেকে পেতে যাবে বর্তমান বাজার প্রেক্ষিতে। তবে ইতোমধ্যে দাম হিসেবে এই ফোনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছে মটোরলা, মাইক্রোসফট লুমিয়ার মতন ফোন। এখন এবার ক্যানোনিক্যাল সফল হতে পারে কিনা তাদের এই উবুন্টু ওস দিয়ে তাই হল দেখার বিষয়।