Showing posts with label Smart Phone. Show all posts
Showing posts with label Smart Phone. Show all posts


echo4-750x400

কিছুটা চুপিসারেই আরও একটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে কিনে নিয়েছে মাইক্রোসফট। ডাবল ল্যাবস নামের এই অ্যাপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি ‘ইকো নোটিফিকেশন লকস্ক্রিন’ নামের একটি জনপ্রিয় অ্যাপ তৈরি করেছে।

মাইক্রোসফট এর আগেও একটি লকস্ক্রিন নোটিফিকেশন অ্যাপ তৈরি করেছিল। গত বছর মাইক্রোসফট গ্যারেজ নামের রিসার্চ ডিভিশন ‘মাইক্রোসফট নেক্সট’ নামের একটি লকস্ক্রিন অ্যাপ তৈরি করেছিল। একজন অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারী যেন ফোন আনলক না করেই লকস্ক্রিন থেকে সব নোটিফিকেশন এবং অন্যান্য তথ্য পেতে পারেন, সে ব্যবস্থা ছিল অ্যাপটিতে।

বর্তমানে ইকো লকস্ক্রিন প্লে স্টোরে দারুণ জনপ্রিয় একটি অ্যাপ। এর রিভিউ রয়েছে ৫০ হাজারের বেশি।

ফোনের মূল্য যত কমতে থাকে তাদের ডিজাইনও তত খারাপ হতে থাকে। বাজারে থাকা অধিকাংশ স্মার্টফোনের বেলায় কথাটা সত্য হলেও ওবিআই ওয়ার্ল্ডফোন এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা জন স্কালি এবং অ্যামুনেশন ডিজাইনের প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট ব্রানার বলছেন ভিন্ন কথা।

 সম্প্রতি ওবিআই ওয়ার্ল্ডফোন উন্মুক্ত করতে যাচ্ছে তাদের নতুন ডিজাইনের দুটি মিড-লেভেল স্মার্টফোন, এসএফ১ এবং এসজে১.৫। দুটি ফোনের মুল্যই ২০০ ডলারের মধ্যে।

আর চমৎকার এই নতুন ডিজাইনের ফোন দুটির প্রধান ক্রেতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এশিয়া, আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের দশ থেকে পঁচিশ বছর বয়সী তরুণদেরকে।

চমৎকার ডিজাইনের সাথে এ ফোন দুটিতে থাকছে শক্তিশালী হার্ডওয়্যার এবং চমকপ্রদ অনেক ফিচার (কোয়ালকম এবং মিডিয়াটেক প্রসেসর, সনি ক্যামেরা, কর্নিং গোরিলা গ্লাস এবং ডলবি সাউন্ড)।

কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি ফোনের যে ফিচারের উপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তা হল ফোনের ডিজাইন এবং অ্যান্ড্রয়েডের মডিফাইড ভার্শন।

বর্ষাকাল তো বটেই, অন্য সময়েও কিন্তু বিভিন্নভাবে সাধের মোবাইল ফোনটি পানিতে ভিজে যেতে পারে। দামি স্মার্টফোন পানিরোধি হলেও অধিকাংশ স্মার্টফোন কিংবা ফিচার ফোনেই এই সুবিধা নেই। আর তাই একবার পানিতে ভিজলে ফোনটির ভেতর পানি প্রবেশের সম্ভাবনাও প্রবল।

তবে পানিতে ভিজে গেলে দ্রুতই যদি কিছু ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তাহলে সাধের মোবাইল ফোনটিকে অকেজো হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব। কী সেগুলো? চলুন দেখে নেওয়া যাক-

১. ফোন বন্ধ করুন: 

স্মার্টফোনই হোক আর ফিচার ফোনই হোক, পানিতে ভিজে গেলে প্রথমেই ফোনটি বন্ধ করে ফেলুন। এর কারণ হলো ফোন চালু থাকলে এর ভেতরের সার্কিটগুলো সক্রিয় থাকে যার মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ চলাচল করে। তবে সেখানে পানি প্রবেশ করলে শর্ট সার্কিট হয়ে পুরো মাদারবোর্ড নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। আর এরকমটি হলে ফোনটি একেবারেই অচল হয়ে যাবে। তবে ফোনের ডিসপ্লে বন্ধ থাকা অবস্থায় যদি পানিতে ভিজে যায়, তাহলে পানি থেকে সরিয়ে প্রথমেই পাওয়ার বাটন চেপে ডিসপ্লে অন করুন এবং এরপর ফোন বন্ধ করুন।

২. বাতাসে শুকাতে দিন: 

ফোনের ব্যাটারি অপসারণযোগ্য হলে ব্যাটারিটি খুলে ফেলুন। এরপর ফোনটি বাতাসে শুকাতে দিন। সিম কার্ড কিংবা মাইক্রোএসডি কার্ড থাকলে তাও খুলে ফেলুন। অন্যান্য কাভার কিংবা ব্যাকপার্টটিও সরিয়ে নিন যাতে করে ফোনে বাতাস প্রবেশ করতে পারে।

৩. ড্রায়ার ব্যবহার করে শুকাবেন না: 

ফোনের ভেতরটা দ্রুত শুকাতে ড্রায়ার ব্যবহার করবেন না। এতে করে ড্রায়ারের গরম বাতাসে ভেতরর কমপোনেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

৪. চাল এবং সিলিকা ব্যবহার করুন: 

জলীয় পদার্থ শুষে নিতে চাল এবং সিলিকা জেল দারুণ কার্যকরী। তাই আপনার আর্দ্র ফোনটি এক বাটি চালের ভেতর গুঁজে রাখতে পারেন। এতে করে ফোনের ভেতরে থাকা পানি চাল শুষে নেবে। আর ভেতরে একেবারেই পানি থাকবে না। চালের পাশাপাশি চাইলে সিলিকা জেলও ব্যবহার করতে পারেন। চালের তুলনায় এটি এটি একটু বেশি কার্যকরী। উভয়ক্ষেত্রেই ভাল ফল পেতে চাইলে ২-৩ দিন ধরে চাল কিংবা সিলিকা জেলের মধ্যে ফোনটিকে রাখতে হবে।

৫. ফোন চালু করুন: 

ফোনের ভেতরের কোন কমপোনেন্ট যদি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তাহলে এবার আপনার ফোনটি চালু হবে। আর যদি চালু না হয়, সেক্ষেত্রে ফোনটি সার্ভিসিংয়ের মাধ্যমে ঠিক করা যেতে পারে।


অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম চালিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তৈরি ট্যাবলেট ডিভাইস বাজারে পাওয়া যায়। এ ধরনের ট্যাবলেট প্রাথমিক সেটআপ দেওয়ার পর ব্যবহার শুরুর আগেই যেসব কাজ করলে ব্যবহার সহজ হবে ও পারফর্মেন্স বাড়বে, সে ধরনের ছয়টি কাজ নিয়েই এ নিবন্ধ।


১. লম্বা ব্যাটারি লাইফের জন্য

ট্যাবলেটের ব্যাটারি লাইফ বেশ কয়েকটা বিষয়ের উপর নির্ভর করে। এর মধ্যে যেসব সেটিং আপনার হাতে আছে সেগুলো পরিবর্তন করে নেয়াই ভালো। সবচেয়ে বেশি ব্যাটারি ক্ষয় হয় ডিসপ্লে দিয়ে। তাই একে যথাসম্ভব অনুজ্জ্বল করে রাখুন। এটি যদি সরাসরি সূর্যালোকে ব্যবহার করা না হয়, তাহলে উজ্জ্বলতা ৫০ ভাগে রাখতে পারেন। সম্পূর্ণ অন্ধকার কক্ষে এর উজ্জ্বলতা শূন্যতে রাখলেও এর কাজ চলবে।
এরপর নজর দিবেন অব্যবহৃত সেবাগুলো বন্ধ করার দিকে। সবগুলোই সেটিংস-এ পাওয়া যাবে। যোগাযোগের ব্যবস্থাগুলো ব্যবহার না করলে এটি এয়ারপ্লেন মোডে রাখতে পারেন। এছাড়া বন্ধ রাখতে পারেন ব্লুটুথ, লোকেশন এক্সেস, এনএফসি ও সেলুলার নেটওয়ার্ক। এর সবগুলোই ব্যাটারির চার্জ কমিয়ে দেয়।


২. ফাইল ম্যানেজার ইনস্টল করুন

অ্যাপলের আইওএস চালিত অপারেটিং সিস্টেমের তুলনায় অ্রান্ড্রয়েডের অন্যতম সুবিধা হচ্ছে, আপনি ফাইল সিস্টেমে সরাসরি প্রবেশ করতে পারবেন। এ কাজটি করতে পারবেন ইএস ফাইল এক্সপ্লোরারের সাহায্যে। অ্যাপটি প্রত্যেক ফাইল, ফোল্ডার ও মেমোরি কার্ডে সংরক্ষিত তথ্য প্রদর্শন করতে সক্ষম। এছাড়া এর মাধ্যমে ফাইলগুলো সাজিয়ে রাখা যায়। ফাইল ম্যানেজার আপনি ব্যবহার করতে পারেন আপনার ট্যাবের সব অ্যাপ ছাড়াও মুভি, টিভি শো ও ডকুমেন্টসসহ সবধরনের ফাইলের ক্ষেত্রেই।


৩. স্ট্রিমিং অ্যাপ ইনস্টল করুন

ভিডিও দেখার জন্য ট্যাবলেট খুবই উপযুক্ত। ভিডিও স্ট্রিম করার জন্য ট্যাবলেটে প্রয়োজনীয় অ্যাপ ইনস্টল করুন। এর ফলে শুধু ইন্টারনেট কানেকশন দিয়েই বহু সঙ্গীত ও সিনেমা দেখতে পাবেন। আর এতে মূল্যবান ডিস্ক স্পেসও নষ্ট হবে না।
নেটফ্লিক্স ও হুলু এক্ষেত্রে হতে পারে প্রথম পছন্দ। এ ছাড়াও বিভিন্ন টিভি স্টেশনের নিজস্ব অ্যাপ আছে। এগুলো ইনস্টল করে তাদের প্রোগ্রাম দেখতে পাবেন।


৪. ইনস্টল করুন এইচডি উইডগেটস

অ্যান্ড্রয়েড ওএস খুবই কাস্টমাইজেবল ও ফ্লেক্সিবল। ট্যাবলেটের পূর্ণ ব্যবহার করার জন্য উইডগেট ইনস্টল করুন।
এইচডি উইডগেটস ইনস্টল করে আপনি ডিজিটাল ঘড়ি ছাড়াও আবহাওয়ার খবরাখবর হোম স্ক্রিনেই পেতে পারেন। এ ছাড়াও ওয়াইফাই সেটিংস, ব্রাইটনেস, স্ক্রিন টাইম-আউট, টিল্ট ও ব্যাটারি লাইফের জন্য শর্টকাট তৈরি করা যাবে।


৫. ট্যাবলেটকে নিরাপদ করুন

অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বিশেষজ্ঞদের। এজন্য ভাইরাস গার্ড ইনস্টল করে নিতে হবে।
ট্যাবলেটের নিরাপত্তার জন্য টাকা খরচ করতে না চাইলে আছে বিনামূল্যের অ্রান্টিভাইরাস- এভিজি। কিছু বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের বিনিময়ে এটি বিনামূল্যে চালাতে পারবেন।
এতে একটি অ্যান্টিথেফ্ট ফিচারও আছে, যাতে এটি হারিয়ে গেলে গুগল ম্যাপে এর অবস্থান দেখা যাবে। এ ছাড়াও দূর থেকেই ট্যাবলেট লক করে দেওয়ার ও ডেটা মুছার ব্যবস্থা আছে এতে।এ ছাড়াও অ্রাপটিতে আছে টাস্ক কিলার নামে একটি ফিচার। এর মাধ্যমে ব্যাকগ্রাউন্ডে চলমান অপ্রয়োজনীয় কাজ বন্ধ করতে পারবেন আপনি। এতে ট্যাবলেটের পারফর্মেন্স অনেক বাড়বে।


৬. থ্রিডিমার্ক চালান

মোবাইল গেমস এখন অনেকেরই প্রিয়। কিছু গেম নিশ্চয়ই ট্যাবলেটটিতে ইনস্টল করে খেলতে চাইবেন আপনি। পারলে থ্রিডি গেমও ইনস্টল করবেন। কিন্তু কোন গেমটি এতে চলবে আর কোনটি চলবে না, সেটা জানবেন কীভাবে? এজন্য আছে থ্রিডিমার্ক।
থ্রিডিমার্ক-এর গ্রাফিক্স বেঞ্চমার্ক আপনাকে নির্ণয় করতে সাহায্য করবে কোন গেমটি এতে চলবে আর কোনটি চলবে না। সবচেয়ে ভালো হয় যদি থ্রিডিমার্ক আল্টিমেট টেস্ট চালান। অ্যাপটি চালিয়ে স্কোর পেয়ে গেলে সেটা নিয়ে থ্রিডিমার্কের ওয়েবসাইটে যান। এ নাম্বার যত বেশি হবে, থ্রিডি গেমিং পারফর্মেন্স তত বেশি হবে।

ডেস্কটপে ফেসবুকের অটোপ্লে বন্ধ করতে হলে ফেসবুকের সেটিংস থেকে ভিডিও অপশনে যাবেন। এখানে দুটি অপশন পাবেন। দ্বিতীয়টি ভিডিও অটোপ্লে অপশন। এটি ডিফল্ট থাকে। এটি অফ বা অন করতে পারবেন।

অ্যান্ড্রয়েডে তিন লাইন বা হামবার্গার চিহ্নিত সেটিংস মেনুতে যান। সেখানে অ্যাপ সেটিংসে গিয়ে ভিডিও অটো প্লে বন্ধ করে দিতে পারেন।



আইফোনে হ্যামবার্গার বা মোর বাটন থেকে স্ক্রল করে অ্যাকাউন্ট সেটিংসে যান। এখান থেকে ভিডিও অ্যান্ড ফটোজে সিলেক্ট করে এটি বন্ধ করে দিতে পারেন।

আইপ্যাডে মেনু থেকে সেটিংসে গিয়ে ভিডিওতে যান এবং সেখান থেকে অটোপ্লে বন্ধ করার অপশন পাবেন।

বেশ কিছু অর্থ খরচ করে শখের জিনিসটি কিনতে গেলে নানা দোটানায় পড়তে হয়। এটা ভালো হবে তো, নাকি ওটা? এমন আরো অনেক প্রশ্ন। এ যুগে অতিপ্রিয় মোবাইল ফোনসেট কেনার সময় তো চিন্তার শেষ নেই। তাই আপনাদের মস্তিষ্কের চাপ কিছুটা কমিয়ে দিতে মোবাইল ফোনসেট কেনার ১৯টি টিপস দেওয়া হলো।

১. ডিজাইন নিয়ে একটু চিন্তা করুন

স্মার্ট ফোনের ক্ষেত্রে ডিজাইনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ বিষয়ে কারো কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়ার কিছু নেই। এটা একান্ত নিজের রুচির ব্যাপার। বাজারের সব স্মার্ট ফোনের নজরকাড়া ডিজাইন রয়েছে। আবার বিভিন্ন কেস রয়েছে ফোনটিকে আরো আকর্ষণীয় করার জন্য। কাজেই নিজের ব্যক্তিগত চাহিদা এবং রুচি অনুযায়ী ডিজাইন পছন্দ করাই ভালো।

২. ওজন এবং অনুভূতি

মোবাইল ফোনসেটের এ বৈশিষ্ট্য নিয়ে কেউ তেমন মাথা ঘামায় না। অনেক ফোন আছে যা পকেটে থাকলে আপনি বুঝতেই পারবেন না যে কিছু একটা রয়েছে। মোবাইল ফোনসেট যত বড় হয় সাধারণত এর ওজনও তত বেশি হয়। তবে এসব দেখার আগে খেয়াল করবেন ফোনসেটে ব্যাটারি লাগানো রয়েছে কি না। কারণ ব্যাটারির ওজনটিও বেশ হয়।

৩. পর্দার আকারটিই সবকিছু নয়

স্ক্রিনের আকারটি সবাই দেখেন নতুন মোবাইল কেনার সময়। এখন বড় স্ক্রিনের মোবাইল বেশি জনপ্রিয়। তবে সহজে বহন করতে চাইলে ছোট পর্দার মোবাইল নেওয়া উচিত। চার ইঞ্চি বা সাড়ে চার ইঞ্চি বা পাঁচ ইঞ্চি পর্দার মোবাইল ফোনেরও বেশ চাহিদা রয়েছে।

৪. ডিসপ্লের গুণগত মান

পর্দার গুণগত মান অনেক প্রয়োজনীয় বিষয়। সবচেয়ে ভালো মানের ডিসপ্লে ১০৮০পি (১৯২০ x ১০৮০ পিক্সেলস)। তবে এই ডিসপ্লেযুক্ত ফোনের দামটিও বেশ চড়া হবে। খেয়াল করে দেখতে হবে ভিন্ন ভিন্ন কোণ থেকে দেখলে ছবি পরিষ্কার দেখা যায় কি না। সাধারণ মানের মোবাইলের ডিসপ্লে ৭২০পি-এর কম হয়ে থাকে।

৫. অপারেটিং সিস্টেম

মৌলিক কয়েকটি অপারেটিং সিস্টেম রয়েছে। অ্যান্ড্রয়েড এখনকার সবচেয়ে জনপ্রিয় সিস্টেম। এদিকে আইফোনের রয়েছে আইওএস যার সাম্প্রতিকতম সংস্করণ হলো আইওএস ৭। আবার উইন্ডোজ অপারেটিংয়ের ভক্তের সংখ্যাও নেহায়েতই কম নয়। পছন্দেরটি বেছে নিন। কারণ অপারেটিং সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করেই গোটা ফোনের সব কার্যক্রম নির্ধারিত হয়।

৬. থ্রি-জি নাকি ফোর-জি

আমাদের দেশে সবেমাত্র থ্রি-জি কানেকশন চালু হয়েছে। ডাটা কানেকশনের গতি নির্ভর করে এর ওপর। আরো দ্রুত কানেকশন দেয় ফোর-জি। এ যুগের স্মার্ট ফোনের জন্য থ্রি-জি কানেকশন নিতে পারে এমন মোবাইল বেশি ভালো।

৭. ব্যাটারির শক্তি

ব্যাটারির শক্তি নির্ধারিত হয় মোবাইল ফোনটি কেমন তার ওপর ভিত্তি করে। তবে বড় মাপের স্ক্রিনের মোবাইল বেশি ব্যাটারি শক্তি ক্ষয় করে। তাই শক্তিশালী ব্যাটারি প্রয়োজন হবে মোবাইলটি অনেক সময় ধরে চালু রাখার জন্য। এখন ৩০০০ এমএএইচ সবচেয়ে বেশি শক্তির ব্যাটারি হিসেবে বাজারে চালু রয়েছে।

৮. সফটওয়্যার আপডেট রাখা

ফোনের সফটওয়্যার প্রতিনিয়ত আপডেট হচ্ছে। আপনিও যদি নিজের ফোনের সফটওয়্যারগুলো আপডেট রাখেন তাহলে যন্ত্রটি সুন্দরমতো কাজ করবে। নয়তো নানা ভেজাল করবে যেকোনো কাজ করতে। নতুন কোনো অ্যাপস সাপোর্ট করবে না এবং ফোনটি ধীরগতির হয়ে যাবে।

৯. ২ জিবি র‌্যাম নেওয়ার চেষ্টা করুন

ফোনের কার্যক্রমে দ্রুততা দেবে র‌্যাম। ফোন কিনতে বেশ কিছু অর্থ ব্যয় করলে এক জিবি র‌্যামই যথেষ্ট। তবে অল্প কিছু অর্থযোগে বা পছন্দ পরিবর্তনে ২ জিবির ব্যবস্থা করা গেলে অনেক ভালো। আধুনিক মোবাইলগুলো ৩ জিবি পর্যন্ত র‌্যাম নিয়ে বাজারে আসছে।

১০. ক্যামেরা রেজ্যুলেশন অতি দরকারি নয়

ক্যামেরা রেজ্যুলেশনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে একটিও নয়। কারণ ভালো মানের ছবি তোলার কাজ ক্যামেরার, মোবাইল ফোনের নয়। বেশি রেজ্যুলেশনের মোবাইল ক্যামেরার ছবি কিছুটা ভালো আসে। কিন্তু তা ক্যামেরার মতো নয়। তাই অন্য বিষয় বাদ দিয়ে ফোনে ক্যামেরা রেজ্যুলেন বেশি খোঁজাটা বোকামি।

১১. শক্তপোক্ত ফোন

স্মার্ট ফোনের জন্য তা কতটা শক্তপোক্ত তা জরুরি বিষয়। তা ছাড়া পর্দাতে সহজে দাগ যেন না পড়ে সে জন্য স্ক্র্যাচ রেজিস্ট্যান্ট গ্লাস রয়েছে অনেক ফোনে। হাত থেকে পড়ে গেলেই ভেঙে বা ফেটে যাবে না, অন্তত তেমন তো হতে হবে ফোনটিকে।

১২. ব্লু টুথ বেশ জরুরি

যাই কিনুন, দেখে নিন ব্লু টুথ রয়েছে কি না। এটি একটি দারুণ জিনিস। ব্লু টুথ ছাড়া অন্য কোনো মোবাইলের সঙ্গে আপনি কিছুই লেনদেন করতে পারবেন না। এখনকার দামি সব ফোনেই ব্লু টুথ রয়েছে। তবে কমদামি মোবাইল কিনতে গেলে একটু দেখে নিন তা রয়েছে কি না।

১৩. এনএফএস থাকলে ভালো

এনএফএস বা নেয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন বেশ প্রয়োজনীয় বিষয়। অন্য কোনো স্মার্ট ফোন বা ট্যাবের মধ্যে ডাটা আদান-প্রদানের জন্য এনএফএস দরকার হয়। এ ছাড়া আপনার কেনাকাটার জন্য কোনো ডিজিটাল ওয়ালেট অথবা দাম পরিশোধের সাপোর্টেড প্রসেসর থাকলে তার ব্যবহার এনএফএস-যুক্ত মোবাইল সহজ করে দেবে। অ্যাপলের নিজস্ব এনএফএস প্রযুক্তি রয়েছে, যার নাম এয়ারড্রপ।

১৪. ঝামেলাবিহীন চার্জের জন্য ওয়্যারলেস চার্জিং

তার ছাড়া চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা অবশ্য খুব প্রয়োজনীয় কিছু নয়। তবে যেখানে সেখানে প্লাগ পয়েন্ট না থাকার সমস্যায় ওয়্যারলেস চার্জিং সিস্টেম বেশ মজার বিষয়।

১৫. পপুলার রিভিউ ও রেটিং সাইট ব্যবহার করুন

ইন্টারনেট থাকলে নানা সাইটে ঢুঁ মারতেই হয়। তবে ম্যালওয়্যারের আক্রমণ থেকে বাঁচতে পপুলার রিভিউ ও রেটিং সাইটে ঘোরাফেরা করবেন। নইলে বিপদ।

১৬. অ্যাক্সেসরিজ

অ্যাক্সেসরিজ সব মোবাইলের সঙ্গেই দেওয়া হয়। তবে অ্যাক্সেসরিজ দেখে ফোন পছন্দ করার দরকার নেই। স্মার্ট অ্যাক্সেসরিজ বেশ আকর্ষণীয় দেখায়। ভালো মানের ফোনের অ্যাক্সেসরিজও বেশ ভালো হয়।

১৭. দাম

এটা আসল বিষয়। এমনিতেই মোবাইল ফোনসেটের দাম যত বেশি হবে, তার সবকিছুই তত ভালো হবে। তবে মোবাইল ফোনসেট কেনার আগে একই মডেলের অন্য কোনো সংস্করণ খুব শিগগিরই বাজারে আসলে তা থেকে কোনো সুবিধে পান কি না ভেবে নিতে হবে।
 

১৮. কন্ট্রাক্ট ফোন নেওয়ার জন্য


ইউরোপ-আমেরিকাতে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিভিন্ন শর্তের ভিত্তিতে মোবাইল ফোনসেট কেনার ব্যবস্থা রয়েছে। আমাদের দেশেও অপারেটর প্রতিষ্ঠানগুলো এমন অফার দিয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি সুবিধা দিচ্ছে এবং মোবাইলগুলোর মডেলের সঙ্গে দাম ও সুবিধাগুলোর তুলনা করে নিজের পছন্দ অনুযায়ী নেবেন।
 

১৯. অ্যাপ্লিকেশন


মোবাইল ফোনসেটেরর অ্যাপস প্রতিনিয়ত এত বেশি বানানো হচ্ছে যে, পছন্দ করতে গেলে আপনার মাথা খারাপ হওয়ার জোগাড় হবে। ইচ্ছামতো অ্যাপস ডাউন লোড করে ব্যবহার করুন। শুধু একটি বিষয় নজরে রাখবেন। মোবাইল ফোনসেটটি যেসব অ্যাপস সাপোর্ট করে তাই ব্যবহার করুন। আর যেসব অ্যাপস আপনার মোবাইলের জন্য নয় তা অবশ্যই কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন না। তা ছাড়া মোবাইল ফোনসেট অনুযায়ী আলাদাভাবে অ্যাপসের কালেকশন ইন্টারনেটে দেওয়া থাকে। সেখান থেকেই ফোনটির জন্য অ্যাপস বাছাউ করে নেওয়া উচিত।

আন্তর্জাতিক স্মার্টফোন বাজারে অ্যান্ড্রয়েডের জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। বর্তমানে প্রায় ৭৯ শতাংশ বাজার দখল করে আছে অ্যান্ড্রয়েড। মূল ইন্টারফেসসহ অপারেটিং সিস্টেমের বিভিন্ন অংশ ব্যবহারকারী তার পছন্দ অনুযায়ী পরিবর্তন করতে পারে। পছন্দের ওয়ালপেপার বেছে নেওয়া, কন্টাক্ট লিস্টের ফোন নম্বরের সঙ্গে ছবি সংযোজন বা প্রয়োজনীয় অ্যাপলিকেশনগুলোর শর্টকাট প্রথম পাতায় নিয়ে আসার মতো বৈশিষ্ট্যগুলো নতুন ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করছে। অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের লুকানো কিছু টিপস রয়েছে,যেগুলো অনেক কাজ সহজে করে দেবে।
  • অফলাইন গুগল ম্যাপ


অ্যান্ড্রয়েডের সঙ্গে গুগল ম্যাপস অ্যাপটি ইনস্টল করাই থাকে। এর মাধ্যমে ইন্টারনেট থেকে সরাসরি মানচিত্র দেখা যায়। তবে ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াও মানচিত্র দেখতে চাইলে আগে থেকেই নামিয়ে রাখতে পারেন। ফলে পরবর্তী সময়ে ওই নির্দিষ্ট এলাকার মানচিত্র দেখার সময় নতুন করে আর ম্যাপস নামবে না এবং ইন্টারনেট সংযোগ নেই, এমন জায়গা থেকেও ব্যবহার করা যাবে মানচিত্র।

গুগল ম্যাপস অ্যাপের পুরোনো সংস্করণে Make this map area available offline নামের অপশন পাওয়া যাবে। ম্যাপস অ্যাপের নতুন সংস্করণে এই অপশনটি মূল মেন্যু থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এখন যে অংশের মানচিত্র অফলাইন হিসেবে নামিয়ে রাখা প্রয়োজন, সেই অংশপর্যন্ত জুম (বড় করে দেখা) করে সার্চ বক্সে ‘OK Maps’ লিখলে ম্যাপের ওই ওই অংশটি অফলাইন হিসেবে সংরক্ষিত হবে।


  • দরকার যখন তখন শুধু থ্রিজি


বর্তমানে প্রায় সব মোবাইল ফোন সেবাদাতা থ্রিজি নেটওয়ার্ক সুবিধা চালু করছে। প্রাথমিকভাবে এই সুবিধাটি নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক দেওয়া হচ্ছে। ফলে ওই নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে থ্রিজি সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না, কিন্তু তার পরও যদি সব সময় থ্রিজি অপশন চালু থাকে, তবে এটি থ্রিজি সংযোগ খুঁজবে, দ্রুত মোবাইলের চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাধারণভাবে মোবাইল নেটওয়ার্ক সেটিংস থেকে শুধু জিএসএম সার্ভিস চালু রাখতে হবে এবং কেবল নির্দিষ্ট সময়ের জন্যই থ্রিজি চালু রাখা উচিত।


  • লকস্ক্রিনে ব্যবহারকারীর তথ্য


সাধারণ নিরাপত্তার জন্য অ্যান্ড্রয়েডে লকস্ক্রিনে অপশনটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ব্যক্তিগত পরিচিতি নম্বর (পিন), নিরাপত্তাসংকেত, বিশেষ প্যাটার্নের মাধ্যমে এই লক ব্যবহার করা যায়। তবে ফোনটি যদি কোথাও হারিয়ে ফেলেন এবং যিনি এটি পেয়েছেন, তিনি ওই ব্যবহারকারীকে ফেরত দিতে চাইলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার কোনো নম্বর দেখতে পারবেন না, কারণ ফোনটি লক করা আছে। অ্যান্ড্রয়েডের ৪.১ এবং এর পরবর্তী সংস্করণগুলোতে লকস্ক্রিনে ব্যবহারকারীর তথ্য লিখে রাখার সুবিধা যোগ করা হয়েছে। Security> Screen security থেকে Owner info সক্রিয় করা যাবে।


  • অভিধানে শব্দ যোগ


নিয়মিত ই-মেইল, এসএমএস লেখার সময় অনেক ক্ষেত্রেই এমন অনেক শব্দ লিখতে হয়, ফোনে থাকা অভিধানে নেই। আবার হয়তো অনেক মানুষের নাম লিখতে হচ্ছে, যেগুলো অভিধানে থাকার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু প্রয়োজন হলে এই শব্দগুলো অভিধানে যুক্ত করে দেওয়া যেতে পারে। অভিধানে নেই এমন শব্দগুলোর ওপর দীর্ঘক্ষণ ক্লিক করে রাখলে সেটি অভিধানে যোগ করার অপশন দেখাবে এবং পরবর্তী সময় থেকে ওই শব্দ লেখার সময় অভিধান থেকেই পরামর্শ দেওয়া হবে।


  • কত ডেটা ব্যবহার করা হলো?


মোবাইলে সবাই যে অসীম ইন্টারনেট ব্যবহারের (আনলিমিটেড) প্যাকেজ নেন, এমন নয়। নির্দিষ্ট একটি প্যাকেজ ব্যবহার শুরু করার পর হঠাৎ যদি সেটি শেষ হয়ে যায়, তবে ব্যবহারকারীর জন্য অসুবিধার কারণ হয় দাঁড়ায়। তবে মোবাইলে কী পরিমাণ ডেটা ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটি পর্যবেক্ষণ করা এবং নির্দিষ্ট একটি সীমানা অতিক্রম করার পর ব্যবহারকারীকে সতর্কবার্তা দেখানোর অপশন রয়েছে। Settings>My Network>Data usage পাতা থেকে ডেটা ব্যবহার ও মনিটর করা যায় এবং সতর্কবার্তা দেখানোর বিষয়টিও এখানে নির্ধারণ করা যায়। অ্যান্ড্রয়েডের পুরোনো সংস্করণগুলোতে এই অপশনটি নাও থাকতে পারে, সে ক্ষেত্রে গুগল প্লে থেকে ডেটা মনিটর অ্যাপ নামিয়ে নেওয়া যেতে পারে।


  • ফেবারিট কন্টাক্ট


নিয়মিত কাজে লাগে, এমন কন্টাক্টগুলো ফেবারিট হিসেবে সংরক্ষণ করার সুবিধা রয়েছে। ফেবারিট কন্টাক্টগুলো আলাদা একটা গ্রুপ হিসেবে সংরক্ষিত থাকে। প্রয়োজন অনুযায়ী এই কন্টাক্টগুলো হোম স্ক্রিনে দেখানোর সুবিধাও রয়েছে।


  • ক্যামেরা অ্যাপ থেকে কুইক রিভিউ


মোবাইলের ক্যামেরা সেটিংস থেকে কুইক রিভিউ অপশন বন্ধ থাকলেও খুব সহজেই ক্যামেরা অ্যাপ চালু করার পর আগের তোলা ছবিগুলো দেখা যায়। ক্যামেরা অ্যাপ স্ক্রিনের ওপরের বা নিচের কোণে এই প্রিভিউ অপশন থাকে। প্রথমবার ক্লিক করা হলে সর্বশেষ ছবিটি দেখা যাবে এবং এরপর ডানে গেলেআগের ছবিগুলো দেখতে পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে একাধিক ছবি দেখার অপশনও রয়েছে এই প্রিভিউ পাতায়।


  • স্ক্রিনশট নেওয়া


অ্যান্ড্রয়েড জেলিবিন এবং পরবর্তী সংস্করণগুলোতে স্ক্রিনশট নেওয়ার সুবিধা আছে। এ জন্য স্ক্রিনলক বাটন এবং ভলিউম ডাউন বাটন একসঙ্গে চাপে ধরে রাখতে হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো স্ক্রিনে কোনো শাটার ক্লিক দেখা যায়। স্ক্রিনশট নেওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে এটি গ্যালারির একটি ফোল্ডারে সংরক্ষিত হতে থাকবে।


  • তথ্য সংরক্ষণ


বর্তমানে অ্যান্ড্র্রয়েড ফোনগুলোতে তথ্য রাখার অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা (ইন্টারনাল স্টোরেজ) থাকে। একই সঙ্গে আলাদা মেমোরি কার্ড ব্যবহারেরও সুবিধা রয়েছে। তাই তথ্য আদান-প্রদানের জন্য এটি পেনড্রাইভের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে।


  • দ্রুত মেসেজ পাঠানো


অ্যান্ড্রয়েড ৪.০ এবং পরবর্তী সংস্করণগুলোতে যখন কোনো কল আসে, তখন ফোন রিসিভ করার অপশনের সঙ্গে এসএমএস পাঠানোর একটি অপশনও দেখানো হয়। এখানে আগে থেকেই লিখে রাখা কিছু বার্তা পাঠানো যায়। হয়তো ব্যবহারকারী সভায় আছেন এবং ওই সময়ে তার ওই ফোন কল ধরা সম্ভব নয়। এমন সময়ে এই বার্তাগুলো ব্যবহার করে দ্রুত জানিয়ে দেওয়া যায়। এই বার্তায় কী লেখা থাকবে, সেটি নির্ধারণ করা যাবে Phone>Settings>Quick Responses অথবা Settings>Call settings>Reject call with message মেন্যু থেকে।


রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ‌‘ব্লকবাস্টার সিনেমা’র তথ্য নিয়ে চালু হয়েছে ‘ব্লকবাস্টার সিনেমা’ নামের অ্যাপ।
এ অ্যাপের সাহায্যে সিনেমা হলের টিকিট বুকিং, অনলাইনে টাকা পরিশোধ, সিনেমার সময় জানা ইত্যাদি করা যাবে। আকারে ছোট অ্যাপটির ব্যবহারও সহজ।

বিনা মূল্যে অ্যাপটি পাওয়ার ঠিকানা: http://bit.ly/1Rvyt34
একুয়ারিস ই৪.৫ – উবুন্টু ফোন


উবুন্টু অনেক বছর ধরেই স্মার্টফোন এবং স্মার্টডিভাইস মার্কেটে প্রবেশের চেষ্টা করে আসছে। তবে তাদের এই চেষ্টা সত্ত্বেও, খুব একটা সফল তারা হয়ে উঠতে পারেনি কোনো ডিভাইস প্রস্তুতকারক কোম্পানিকে তাদের স্মার্টডিভাইসকেন্দ্রিক ওএস এর প্রতি আকৃষ্ট করতে। তবে তারা তারপরও হাল ছাড়েনি। দেড় বছর আগে তারা ক্রাউডসোর্সের মাধ্যমে উবুন্টু এজ নামে একটি স্মার্টফোন আনার চেষ্টা করেছিল যা কিনা একই সাথে স্মার্টফোন এবং ডেস্কটপের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। যদিও তা বিফলে যায় তাদের বিশাল ৩২ মিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য অর্জন করতে না পারায়।

তবে উবুন্টু আবার স্মার্টডিভাইস প্রস্তুতের মাধ্যমে এই বাজারে প্রবেশ করার পরিকল্পনা করছে। অবশ্য তাদের এই ফোন তাদের প্রস্তাবিত উবুন্টু এজের মতন মনিটরের সাথে সংযোগ দিলে ডেস্কটপ কম্পিউটারে পরিনত হবে না। তাদের এই নতুন ফোন, যা কিনা একুয়ারিস ই৪.৫ নামে পরিচিত হবে, মূলত প্রথম দিককার ব্যবহারকারী এবং ডেভেলপারদের কথা চিন্তা করে প্রস্তুত করা। এই নতুন ফোন একটি নতুন কার্ড এর ন্যায় ইউজার ইন্টারফেস ব্যবহার করবে যা কিনা বর্তমান অ্যাপকেন্দ্রিক ওএস এর চেয়ে খানিকটা ভিন্ন।

উবুন্টু এই ফোন বিক্রির ক্ষেত্রে চায়নার বিখ্যাত ব্র্যান্ড শাওমি, যা কিনা বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ স্মার্টফোন প্রস্তুতকারক হিসেবে পরিচিত, তার বিক্রয় পদ্ধতি অনুসরন করার পরিকল্পনা করছে। অর্থাৎ তারা শাওমি এর মতন একাধিক ফ্ল্যাশ সেল করবে। এর মাধ্যমে তারা ফোন সরাসরি গ্রাহকের কাছে বিক্রয় করবে। ফলে ফোনের প্রস্তুতকরণের উপর চাহিদা অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহন করা সম্ভব হবে। উবুন্টুর এই সংস্করণের প্রস্তুতকারক ক্যানোনিক্যাল আগামী সপ্তাহ থেকেই ইউরোপে এই বিক্রয় ব্যবস্থা শুরু করবে। এটির মাধ্যমে দ্রুত ফিডব্যাক নিয়ে তার ফলাফল দিয়ে ওএস এ দ্রুত কাজ করাও সম্ভব হবে।

ক্যানোনিক্যালের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিশ্চিয়ান পারিনো বলেন, “এই একটি প্রতিষ্ঠিত পরিকল্পনা যা কিনা ফোনটি সঠিক মানুষের কাছে পৌছতে সাহায্য করে।” তিনি আরও বলেন যে, আমরা জানি আমরা পরিবেশকের কাছ থেকে সরে আসছি তবে আমরা এই পরিল্পনা নিয়েই এগোতে চাচ্ছি।”

নতুন এই উবুন্টু ফোন অ্যাপকে এইচটিমিএল৫ অথবা সরাসরি তার ন্যাটিভ কোড কিউএমএল এ চালাতে সক্ষম। তবে এর অপারেটিং সিস্টেম পুরো প্রক্রিয়াকে লুকিয়ে রাখতে সাহায্য করে এর ইন্টারফেসের মাধ্যমে। আর এর ইন্টারফেস সচরাচর অ্যাপ গ্রিড ভিউ এর পরিবর্তে থিম কার্ড পদ্ধতি অনুসরণ করে যার ফলে কিছু নির্দিষ্ট সুবিধা একেকটি কার্ড প্রদান করে। ক্যানোনিক্যাল একে স্কোপ বলে যা কিনা খানিকটা গুগলের কার্ড সিস্টেম ইউজার ইন্টারফেস গুগল নাও এর সোয়াইপ কে প্রয়োগ করে বাস্তবায়িত। এটিকে তারা স্কোপস নাম দিয়েছে।

ফোনের হোম স্ক্রিন এখানে হবে আজকের স্কোপ, যেখানে কিনা এমন সব উইজগেট থাকবে যা কিনা ব্যবহারকারী ফোনের সাথে সচরাচর যে কাজ করে থাকে তা তুলে ধরবে। এর মধ্যে থাকতে পারে আবহাওয়া বার্তা , সেদিনকার হেডলাইন অথবা অন্য কোন খবর, টুইটার বার্তা অথবা ব্যবহারকারীর যাদের সাথে সর্বোচ্চ যোগাযোগ করে তা।
উবুন্টু একুয়ারিস ই৪.৫

এছাড়া ডান দিকে সোয়াইপ করলে অন্যান্য স্কোপস এ যাওয়া যাবে যেমন,
  • মিউজিক স্কোপ, যা কিনা সাউন্ডক্লাউড এবং অন্যান্য মিউজিক স্ট্রিমিং সাইট থেকে গান লোদ করে দেখাবে। কোথায় কি কনসার্ট হচ্ছে তা দেখাবে সংকিক অ্যাপ দ্বারা।
  • ভিডিও স্কোপ, যা কিনা ইউটিউব এবং অন্যান্য ভিডিও সার্ভিসের ভিডিও দেখাবে।
  • ফটো স্কোপ, যা কিনা ব্যবহারকারীর সকল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে ছবি নিয়ে দেখাবে।
  • নিয়ার স্কোপ, যা কিনা আসেপাশের সকল প্রয়োজনীয় বিষয়ে তথ্য দিবে। যেমন কোথায় ট্রাফিক জ্যাম, কোথায় পাবলিক ট্রান্সপোর্ট পাওয়া যাবে এবং রেস্টুরেন্ট।
  • অ্যাপ স্কোপ, যা কিনা ক্যামেরা, ক্যালেন্ডার এবং অন্যান্য প্রোগ্রামে যেতে সাহায্য করবে।
ব্যবহারকারীরা তাদের নিজস্ব স্কোপও বানাতে পারবে এবং একটি নির্দিষ্ট সেবা তার নিজের স্কোপও পাবে চাইলে। এর মাধ্যমে ক্যাননিক্যালের মতে, ব্যবহারকারীরা যেমন কোন ধরনের বাধা ধরা ছাড়াই কাজ করতে পারবে ফোনে্, ডেভেলপাররা তেমন তাদের অ্যাপ কম খরচে স্কোপের মাধ্যমে তৈরি করতে পারবে যা কিনা একটি পুরনাঙ্গ অ্যাপের ন্যায় কাজ করতে পারবে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট পারিনো বলেন, আপনি যদি আরেকটা ওএস নিয়ে আসেন যার নিজের অ্যাপ এবং আইকন আছে তাহলে আপনার এবং অন্যান্য ওএস এর মধ্যে সত্যিকার অর্থে কোন পার্থক্য নেই। এতে আপনি শুধুমাত্র তখনই ডেভেলপারদের আকৃষ্ট করবেন যখন একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যবহারকারী আপনার ওএস ব্যবহার করবে। শুধুমাত্র তখন তারা আপনার ওএস জন্যে অ্যাপ বানানোর কথা চিন্তা করবে আর এতে আপনি ব্যবহারকারীর কাছে তখনই ভাল হবে যখন আপনার অ্যাপ ভাল হবে।
আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে এই মডেল থেকে বের হয়ে আসা এবং এমন একটি অভিজ্ঞতা দেয়া যা কিনা নিজের একটি অবস্থান তৈরি করে নিতে পারবে। সুতরাং আপনি যতই বেশি সেবা প্রদান করবেন আপনার ফোন ততই ভাল হবে। তবে কিছু সেবা এখন পাওয়া যাবে না যেমন ওয়াটসঅ্যাপ, স্কাইপ, এবং ইন্সটাগ্রামের কিছু নির্দিষ্ট ফিচার।
ক্যানোনিক্যাল এখানে লাভ করবে প্রতিষ্ঠানকে সাপোর্ট সার্ভিস প্রদান করে। এই ফোনটি মূলত প্রস্তুত করেছে স্প্যানিশ এক প্রতিষ্ঠান বিকিউ যাদের কিনা ইতোমধ্যে ফোনটির একটি অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ রয়েছে। বিকিউ মুলত প্রায় অজানা একটি ট্যাবলেট এবং ই-রিডার প্রস্তুতকারক।

ফোনটির স্পেসিফিকেশন তেমন আকর্ষণীয় নয়। ৪.৫ ইঞ্চি (৫৪০x৯৬০ রেজুলেশন) স্ক্রিন সাইজের এই ফোনে আছে ১.৩ গিগাহার্জ কোয়াড কোর কর্টেক্স এ৭ ভিত্তিক মিডিয়াটেক প্রসেসর, মালি ৪০০ জিপিউ, ১ গিগাবাইট র‍্যাম এবং ৮ গিগাবাইট ইন্টারনাল স্টোরেজ। ক্যামেরা হিসেবে আছে, ৮মেগাপিক্সেল রিয়ার এবং ৫ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা। ফোনে আরও ডাটা রাখতে এতে রয়েছে মাইক্রোএসডি কার্ড সাপোর্ট এছাড়া আছে ডুয়াল সিম সাপোর্ট। ব্যাকআপ দিতে এতে আছে ২১৫০ মিলি অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি। ফোনটির দাম পড়বে প্রায় ১৯৫ ডলার।

ফোনটি মুলত যারা নতুন কিছু অভিজ্ঞতা করতে চায় এবং উবুন্টুর ভক্তদের মধ্যে একটি যোগাযোগ তৈরি করতে পারে। তবে বিষয়টি দ্রুত এমন হতে পারে যখন এসকল ব্যবহারকারী অ্যাপ এর ন্যায় অভিজ্ঞতা এই ফোনগুলো থেকে পেতে যাবে বর্তমান বাজার প্রেক্ষিতে। তবে ইতোমধ্যে দাম হিসেবে এই ফোনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছে মটোরলা, মাইক্রোসফট লুমিয়ার মতন ফোন। এখন এবার ক্যানোনিক্যাল সফল হতে পারে কিনা তাদের এই উবুন্টু ওস দিয়ে তাই হল দেখার বিষয়।
মাইক্রোসফট, নোকিয়া অধিগ্রহণের পর থেকে অনেকেই ধরে নিয়েছিল লুমিয়া স্মার্টফোন তাদের গুণগত মান হারিয়ে ফেলবে। একই সাথে স্মার্টফোনগুলো তাদের নানা উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হারাবে বলেও অনেক শঙ্কিত ছিল। তবে মাইক্রোসফট অধিগ্রহণের পর থেকে যে সকল স্মার্টফোন ঘোষণা করেছে তার কোনটিই উইন্ডোজ ফোনের ফ্যানদের হতাশ করেনি। বরং এক অর্থে নকিয়ার স্মার্টফোনগুলোর তুলনায় নানা দিক থেকে এগুলো ছিল এগিয়ে। আর দামের দিক থেকেও এ ফোনগুলোর মূল্য ছিল যথেষ্ট কম। সেই একই ধারার সাথে তাল মিলিয়ে আজ মাইক্রোসফট ঘোষণা করল লুমিয়া সিরিজের সবচেয়ে কম দামি ফোন লুমিয়া ৪৩০

প্রায় কয়েক মাস আগে ঘোষণা করা লুমিয়া ৪৩৫ এবং লুমিয়া ৫৩২ এর পর এবার মাইক্রোসফট ঘোষণা করল লুমিয়া ৪৩০। মাইক্রোসফটের দেয়া বিবৃতি মতে, এটি হবে মাইক্রোসফট লুমিয়া সিরিজের সবচেয়ে কম দামি ফোন। দামের দিক দিয়ে এই ফোনের দাম কম হলেও, সুবিধাসমূহ এর দিক থেকে ফোনটি কোনভাবেই পিছিয়ে নেই। যেখানে আগে নকিয়া দাম কম রাখার জন্যে নানা প্রয়োজনীয় ফিচারস বাদ দিয়ে দিত, মাইক্রোসফট এর কোন ভুলই করেনি। তাদের এই নতুন ফোনে প্রায় সকল উল্লেখযোগ্য ফিচারই বিদ্যমান।

লুমিয়ার এই নতুন ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে স্ন্যাপড্রাগন ২০০ সিরিজের কর্টেক্স এ৭ ভিত্তিক প্রসেসর এবং সাথে আছে ১ গিগাবাইট র‍্যাম। ফলে উইন্ডোজ স্টোরের প্রায় সকল অ্যাপই এতে চালানো যাবে। এছাড়া অ্যাপ ইন্সটলের জন্যে আরও আছে ৮ গিগাবাইট স্টোরেজ। আর যদি এই স্টোরেজও কম মনে হয় তবে মাইক্রোএসডি কার্ডের মাধ্যমে এর স্টোরেজ ১২৮ গিগাবাইট পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যাবে।


লুমিয়া ৪৩০, ছবি: verge.com
লুমিয়া ৪৩০

এর ৪ ইঞ্চি স্ক্রিনের রেজুলেশন রাখা হয়েছে ৮০০x৪৮০। ফলে এর প্রতি ইঞ্চে পিক্সেল রয়েছে ২৩৫। তবে এর স্ক্রিন আইপিএস নাকি অন্য প্রযুক্তির সেই বিষয়ে কোন ধারনা পাওয়া যায়নি। যেহেতু দাম অনেক কম তাই মাইক্রোসফট ফোনটিতে তাদের বিখ্যাত ডিস্পপ্লে প্রযুক্তিও ব্যবহার করেনি। আসল দাম কম রাখা হয়েছে মূলত এর ক্যামেরা এর কার্যক্ষমতা কমিয়ে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ২ মেগাপিক্সেল ফিক্সড ফোকাস ক্যামেরা আর সামনে আছে একটি ভিজিএ ক্যামেরা স্কাইপ এবং অন্যান্য ভিডিও কল করার জন্যে।

ব্যাটারির ব্যাকআপের জন্যে এতে আছে ১৫০০ মিলি অ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি। এখানে উল্লেখ্য যে, এই ফোন উইন্ডোজ ৮.১ এর ডেনিম আপডেটে চলে আর মাইক্রোসফট জানিয়েছে উইন্ডোজ ১০ বের হলে এই ফোন তার আপডেট পাবে।ফোনটিতে আরও আছে স্মার্টডুয়াল সিম সাপোর্ট সুতরাং এর ক্রেতা অনায়াসে এতে দুটি সিম ব্যবহার করতে পারবে।

মাইক্রোসফট মুলত ফোনটি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্যে বের করেছে। ফোনটি আগামী এপ্রিলে এশিয়া, মিডল ইস্ট, আফ্রিকাতে উন্মুক্ত করা হবে। ট্যাক্স এবং অন্যান্য খরচের হিসেব বাদ দিলে এই ফোনের দাম হবে ৭০ ডলার অথবা ৫৪৬৫ টাকা।