Showing posts with label Take care. Show all posts
Showing posts with label Take care. Show all posts

বর্ষাকাল তো বটেই, অন্য সময়েও কিন্তু বিভিন্নভাবে সাধের মোবাইল ফোনটি পানিতে ভিজে যেতে পারে। দামি স্মার্টফোন পানিরোধি হলেও অধিকাংশ স্মার্টফোন কিংবা ফিচার ফোনেই এই সুবিধা নেই। আর তাই একবার পানিতে ভিজলে ফোনটির ভেতর পানি প্রবেশের সম্ভাবনাও প্রবল।

তবে পানিতে ভিজে গেলে দ্রুতই যদি কিছু ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তাহলে সাধের মোবাইল ফোনটিকে অকেজো হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব। কী সেগুলো? চলুন দেখে নেওয়া যাক-

১. ফোন বন্ধ করুন: 

স্মার্টফোনই হোক আর ফিচার ফোনই হোক, পানিতে ভিজে গেলে প্রথমেই ফোনটি বন্ধ করে ফেলুন। এর কারণ হলো ফোন চালু থাকলে এর ভেতরের সার্কিটগুলো সক্রিয় থাকে যার মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ চলাচল করে। তবে সেখানে পানি প্রবেশ করলে শর্ট সার্কিট হয়ে পুরো মাদারবোর্ড নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। আর এরকমটি হলে ফোনটি একেবারেই অচল হয়ে যাবে। তবে ফোনের ডিসপ্লে বন্ধ থাকা অবস্থায় যদি পানিতে ভিজে যায়, তাহলে পানি থেকে সরিয়ে প্রথমেই পাওয়ার বাটন চেপে ডিসপ্লে অন করুন এবং এরপর ফোন বন্ধ করুন।

২. বাতাসে শুকাতে দিন: 

ফোনের ব্যাটারি অপসারণযোগ্য হলে ব্যাটারিটি খুলে ফেলুন। এরপর ফোনটি বাতাসে শুকাতে দিন। সিম কার্ড কিংবা মাইক্রোএসডি কার্ড থাকলে তাও খুলে ফেলুন। অন্যান্য কাভার কিংবা ব্যাকপার্টটিও সরিয়ে নিন যাতে করে ফোনে বাতাস প্রবেশ করতে পারে।

৩. ড্রায়ার ব্যবহার করে শুকাবেন না: 

ফোনের ভেতরটা দ্রুত শুকাতে ড্রায়ার ব্যবহার করবেন না। এতে করে ড্রায়ারের গরম বাতাসে ভেতরর কমপোনেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

৪. চাল এবং সিলিকা ব্যবহার করুন: 

জলীয় পদার্থ শুষে নিতে চাল এবং সিলিকা জেল দারুণ কার্যকরী। তাই আপনার আর্দ্র ফোনটি এক বাটি চালের ভেতর গুঁজে রাখতে পারেন। এতে করে ফোনের ভেতরে থাকা পানি চাল শুষে নেবে। আর ভেতরে একেবারেই পানি থাকবে না। চালের পাশাপাশি চাইলে সিলিকা জেলও ব্যবহার করতে পারেন। চালের তুলনায় এটি এটি একটু বেশি কার্যকরী। উভয়ক্ষেত্রেই ভাল ফল পেতে চাইলে ২-৩ দিন ধরে চাল কিংবা সিলিকা জেলের মধ্যে ফোনটিকে রাখতে হবে।

৫. ফোন চালু করুন: 

ফোনের ভেতরের কোন কমপোনেন্ট যদি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তাহলে এবার আপনার ফোনটি চালু হবে। আর যদি চালু না হয়, সেক্ষেত্রে ফোনটি সার্ভিসিংয়ের মাধ্যমে ঠিক করা যেতে পারে।


অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম চালিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তৈরি ট্যাবলেট ডিভাইস বাজারে পাওয়া যায়। এ ধরনের ট্যাবলেট প্রাথমিক সেটআপ দেওয়ার পর ব্যবহার শুরুর আগেই যেসব কাজ করলে ব্যবহার সহজ হবে ও পারফর্মেন্স বাড়বে, সে ধরনের ছয়টি কাজ নিয়েই এ নিবন্ধ।


১. লম্বা ব্যাটারি লাইফের জন্য

ট্যাবলেটের ব্যাটারি লাইফ বেশ কয়েকটা বিষয়ের উপর নির্ভর করে। এর মধ্যে যেসব সেটিং আপনার হাতে আছে সেগুলো পরিবর্তন করে নেয়াই ভালো। সবচেয়ে বেশি ব্যাটারি ক্ষয় হয় ডিসপ্লে দিয়ে। তাই একে যথাসম্ভব অনুজ্জ্বল করে রাখুন। এটি যদি সরাসরি সূর্যালোকে ব্যবহার করা না হয়, তাহলে উজ্জ্বলতা ৫০ ভাগে রাখতে পারেন। সম্পূর্ণ অন্ধকার কক্ষে এর উজ্জ্বলতা শূন্যতে রাখলেও এর কাজ চলবে।
এরপর নজর দিবেন অব্যবহৃত সেবাগুলো বন্ধ করার দিকে। সবগুলোই সেটিংস-এ পাওয়া যাবে। যোগাযোগের ব্যবস্থাগুলো ব্যবহার না করলে এটি এয়ারপ্লেন মোডে রাখতে পারেন। এছাড়া বন্ধ রাখতে পারেন ব্লুটুথ, লোকেশন এক্সেস, এনএফসি ও সেলুলার নেটওয়ার্ক। এর সবগুলোই ব্যাটারির চার্জ কমিয়ে দেয়।


২. ফাইল ম্যানেজার ইনস্টল করুন

অ্যাপলের আইওএস চালিত অপারেটিং সিস্টেমের তুলনায় অ্রান্ড্রয়েডের অন্যতম সুবিধা হচ্ছে, আপনি ফাইল সিস্টেমে সরাসরি প্রবেশ করতে পারবেন। এ কাজটি করতে পারবেন ইএস ফাইল এক্সপ্লোরারের সাহায্যে। অ্যাপটি প্রত্যেক ফাইল, ফোল্ডার ও মেমোরি কার্ডে সংরক্ষিত তথ্য প্রদর্শন করতে সক্ষম। এছাড়া এর মাধ্যমে ফাইলগুলো সাজিয়ে রাখা যায়। ফাইল ম্যানেজার আপনি ব্যবহার করতে পারেন আপনার ট্যাবের সব অ্যাপ ছাড়াও মুভি, টিভি শো ও ডকুমেন্টসসহ সবধরনের ফাইলের ক্ষেত্রেই।


৩. স্ট্রিমিং অ্যাপ ইনস্টল করুন

ভিডিও দেখার জন্য ট্যাবলেট খুবই উপযুক্ত। ভিডিও স্ট্রিম করার জন্য ট্যাবলেটে প্রয়োজনীয় অ্যাপ ইনস্টল করুন। এর ফলে শুধু ইন্টারনেট কানেকশন দিয়েই বহু সঙ্গীত ও সিনেমা দেখতে পাবেন। আর এতে মূল্যবান ডিস্ক স্পেসও নষ্ট হবে না।
নেটফ্লিক্স ও হুলু এক্ষেত্রে হতে পারে প্রথম পছন্দ। এ ছাড়াও বিভিন্ন টিভি স্টেশনের নিজস্ব অ্যাপ আছে। এগুলো ইনস্টল করে তাদের প্রোগ্রাম দেখতে পাবেন।


৪. ইনস্টল করুন এইচডি উইডগেটস

অ্যান্ড্রয়েড ওএস খুবই কাস্টমাইজেবল ও ফ্লেক্সিবল। ট্যাবলেটের পূর্ণ ব্যবহার করার জন্য উইডগেট ইনস্টল করুন।
এইচডি উইডগেটস ইনস্টল করে আপনি ডিজিটাল ঘড়ি ছাড়াও আবহাওয়ার খবরাখবর হোম স্ক্রিনেই পেতে পারেন। এ ছাড়াও ওয়াইফাই সেটিংস, ব্রাইটনেস, স্ক্রিন টাইম-আউট, টিল্ট ও ব্যাটারি লাইফের জন্য শর্টকাট তৈরি করা যাবে।


৫. ট্যাবলেটকে নিরাপদ করুন

অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বিশেষজ্ঞদের। এজন্য ভাইরাস গার্ড ইনস্টল করে নিতে হবে।
ট্যাবলেটের নিরাপত্তার জন্য টাকা খরচ করতে না চাইলে আছে বিনামূল্যের অ্রান্টিভাইরাস- এভিজি। কিছু বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের বিনিময়ে এটি বিনামূল্যে চালাতে পারবেন।
এতে একটি অ্যান্টিথেফ্ট ফিচারও আছে, যাতে এটি হারিয়ে গেলে গুগল ম্যাপে এর অবস্থান দেখা যাবে। এ ছাড়াও দূর থেকেই ট্যাবলেট লক করে দেওয়ার ও ডেটা মুছার ব্যবস্থা আছে এতে।এ ছাড়াও অ্রাপটিতে আছে টাস্ক কিলার নামে একটি ফিচার। এর মাধ্যমে ব্যাকগ্রাউন্ডে চলমান অপ্রয়োজনীয় কাজ বন্ধ করতে পারবেন আপনি। এতে ট্যাবলেটের পারফর্মেন্স অনেক বাড়বে।


৬. থ্রিডিমার্ক চালান

মোবাইল গেমস এখন অনেকেরই প্রিয়। কিছু গেম নিশ্চয়ই ট্যাবলেটটিতে ইনস্টল করে খেলতে চাইবেন আপনি। পারলে থ্রিডি গেমও ইনস্টল করবেন। কিন্তু কোন গেমটি এতে চলবে আর কোনটি চলবে না, সেটা জানবেন কীভাবে? এজন্য আছে থ্রিডিমার্ক।
থ্রিডিমার্ক-এর গ্রাফিক্স বেঞ্চমার্ক আপনাকে নির্ণয় করতে সাহায্য করবে কোন গেমটি এতে চলবে আর কোনটি চলবে না। সবচেয়ে ভালো হয় যদি থ্রিডিমার্ক আল্টিমেট টেস্ট চালান। অ্যাপটি চালিয়ে স্কোর পেয়ে গেলে সেটা নিয়ে থ্রিডিমার্কের ওয়েবসাইটে যান। এ নাম্বার যত বেশি হবে, থ্রিডি গেমিং পারফর্মেন্স তত বেশি হবে।

যারা উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে তাদের প্রায়ই একটি সাধারন সমস্যায় পড়তে হয়। আর তা হল- শর্টকাট ভাইরাস। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর ড্রাইভের আইকন কে শর্টকাট দেখায়। পেনড্রাইভ, মেমোরি কার্ড ও ইন্টারনেট থেকে এই ভাইরাস আক্রমন করে থাকে।

এবার দেখা যাক সহজে এই ভাইরাস রিমুভ করার উপায়-

প্রথমে কম্পিউটারের কি-বোর্ড থেকে CTRL+SHIFT+ESC এই তিনটি বাটন একসাথে চেপে ধরতে হবে।

এরপর সেখানে উইন্ডোজ টাস্ক ম্যানেজার উইন্ডো আসবে। এবার সেখান থেকে PROCESS ট্যাবে ক্লিক করতে হবে। সেখান থেকে wscript.exe ফাইলটি সিলেক্ট করতে হবে।

এখন End Process এ ক্লিক করতে হবে।

এবার কম্পিউটারের C:/ ড্রাইভে গিয়ে সার্চ বক্সে wscript লিখে সার্চ দিতে হবে।

সেখানে wscript নামের সব ফাইলগুলো SHIFT+DELETE চেপে ডিলিট করে দিতে হবে।

এরপর RUN এ গিয়ে wscript.exe লিখে ENTER করতে হবে। এবং Stop script after specified number of seconds অপশনে 1 দিয়ে APPLY করতে হবে।
যারা ল্যাপটপে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, তাঁদের কাছে ভাইরাস এক মূর্তিমান আতঙ্ক। তবে অন্য কারণেও প্রিয় ল্যাপটপ ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে।ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে চাই সচেতনতা ও নিয়মিত ল্যাপটপের পরিচর্যা।
বর্তমানে ইন্টারনেটে কিছু ভুয়া অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার আছে, যেগুলো মূলত ভাইরাস। ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় হঠাৎ করে হয়তো কোনো বার্তা দেখবেন, আপনার কম্পিউটার ভাইরাসে ভর্তি হয়ে গেছে, এক্ষুনি ভাইরাসগুলো দূর না করলে ভীষণ বিপদ ঘটে যাবে! এমনকি আপনার কোন ড্রাইভে কী কী নামের কতটি ভাইরাস আছে, কোন ড্রাইভের কত শতাংশ জায়গা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে, তা-ও নির্দিষ্ট করে দেখিয়ে দেবে এসব বার্তা।
ভুলেও এ ধরনের ফাঁদে পা দেবেন না। এই বার্তায় ক্লিক করা মানেই ল্যাপটপের সর্বনাশ ডেকে আনা।
রিমুভাল ড্রাইভ (পেনড্রাইভ, মেমোরি কার্ড, ডেটা কেব্ল, হার্ডডিস্ক ইত্যাদি) দিয়ে তথ্য আদন-প্রদানের সময় ল্যাপটপ সবচেয়ে বেশি ভাইরাসের কবলে পড়ে। এসব ল্যাপটপে প্রবেশ করালে অবশ্যই অ্যান্টিভাইরাস দিয়ে স্ক্যান করে নিতে হবে।
অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার কম্পিউটারে ইনস্টল করাই শেষকাজ নয়।নিয়মিত অ্যান্টিভাইরাস হাল নাগাদ করে নিতে হবে।
রিমুভাল ডিস্ক কখনো ফোল্ডারের মতো দুই ক্লিকে খুলবেন না, এতে ভাইরাস ছড়াতে পারে। ডান ক্লিক করে ফোল্ডার অপশনে ক্লিক করে খুলবেন।
রিমুভাল ডিস্ক কম্পিউটার থেকে বিচ্ছিন্ন করার সময় সব সময় ইজেক্ট ডিস্কে ক্লিক করতে হবে না।চালু থাকা সব ধরনের ট্যাব বন্ধ করে খুলে ফেলুন।
আমরা অনেকে ভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মনে করি দু-তিনটি অ্যান্টিভাইরাস ইনস্টল করে রাখলে মনে হয় রক্ষা পাওয়া যাবে, এটি একদম ভুল ধারণা। একটির বেশি অ্যান্টিভাইরাস ইনস্টল করবেন না।এতে কম্পিউটার ধীর গতির হয়ে থাকে।
অযথা সফটওয়্যার ইনস্টল করা থেকে বিরত থাকুন। মনে রাখবেন, সফটওয়্যারের সঙ্গে ভাইরাস আপনার কম্পিউটারে প্রবেশ করতে পারে।
ল্যাপটপের ব্লু-টুথ সক্রিয় রাখবেন না। কাজ শেষে ব্লু-টুথ অবশ্যই বন্ধ রাখবেন।
সার্ভারে যুক্ত এমন ল্যাপটপে সব ধরনের কাজ করবেন না, তাহলে ভাইরাসের আক্রমণের শিকার হতে পারেন। দরকার হলে একটি ভালো লাইসেন্সপ্রাপ্ত অ্যান্টিভাইরাস ইনস্টল করে নেবেন এবং নিয়মিত নেট থেকে হালনাগাদ করে নিন। অটো আপডেট সুবিধা এনাবল (সক্রিয়) করে রাখবেন।
রানে গিয়ে টেম্প ফাইলগুলো মুছে দিন।অনেক দিন জমা পড়ে থাকলে এগুলোও ভাইরাসে রূপ নিতে পারে। কোনো ফাইল মুছতে না পারলেআনলকার নামের সফটওয়্যার দিয়ে প্রথমেই ফাইলটিকে আনলক করে নিন, তারপর ডিলিট করুন।
ইন্টারনেটে সব ধরনের ওয়েবসাইটে না যাওয়াই ভালো।মেইলের নানান স্প্যামযুক্ত ই-মেইলগুলো খুলবেন না।
অ্যান্টিভাইরাসও মাঝেমধ্যে ভাইরাস হয়ে যায়, যদি আপনি অনেক দিন কম্পিউটার ফেলে রাখেন, ব্যবহার না করেন।
ল্যাপটপে পেনড্রাইভ প্রবেশ করালে অটো প্লে সুবিধা বন্ধ রাখুন।


ভাইরাস ভাইরাস করেই অপারেটিং সিস্টেম দিতে যাবেন না, আগে প্রাথমিক কাজগুলো নিয়মিত করুন, তাহলেই হয়ে যাবে।

 সম্ভব হলে মুক্ত অপারেটিং সিস্টেম লিনাক্স ব্যবহার শুরু করুন।




যত্ন করলে রত্ন মেলে—এমন প্রবাদ প্রচলিত আছে। ডিজিটাল ক্যামেরার যত্ন ও ব্যবহারে আলোকচিত্রীর রুচিশীলতাই প্রকাশ পায়। আর এখন তো অনেকের হাতেই ডিজিটাল ক্যামেরা৷ তা অটোফোকাস হোক আর এসএলআরই হোক৷ যত্নটা বেশি লাগে ডিজিটাল এসএলআর (সিঙ্গেল লেন্স রিফ্লেক্ট) ক্যামেরার৷ পেশাদার আলোকচিত্রীরা একাধিক ক্যামেরা, লেন্স, ব্যাগ ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেন। ফলে তাঁদের বিশেষ যত্ন নিতে হয়। যাঁরা শখের বসে ছবি তোলেন, তাঁদেরও যত্নের ব্যাপারে মনোযোগী হতে হবে।
  • বড় শত্রু পানি

ডিজিটাল ক্যামেরার সবচেয়ে বড় শত্রু পানি। বৃষ্টিতে ভিজে বা পানিতে ডুবে ক্যামেরা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। ক্যামেরার ভেতরে পানি ঢুকলে এর মাদারবোর্ডে মরিচা পড়ে। পানি ঢোকামাত্র শুকনো কাপড় বা টিস্যু পেপার দিয়ে মোছা উচিত। আইক্যাপ আর ফিতা লাগানোর জায়গা দিয়ে সাধারণত ক্যামেরার ভেতর পানি ঢোকে৷ এই অবস্থায় ক্যামেরার সুইচ অন থাকলে শর্টসার্কিট হতে পারে। তাই সুইপ অফ করে ক্যামেরা হালকা রোদে শুকাতে হবে৷ ক্যামেরা যেহেতু ব্যাটারিচালিত যন্ত্র, তাই পানি ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটারি খুলে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ। সমুদ্রের কাছে ছবি তুলতে গেলে খুবই সাবধানে ক্যামেরা ব্যবহার করতে হবে। লোনা পানি দ্রুতই ক্যামেরার যন্ত্রাংশের ক্ষতি করে৷ তখন মেরামত করেও কাজ হয় না৷

  • এই সময়ে সাবধান!


বর্ষা মৌসুমে বাতাসের আর্দ্রতা েবশি থাকে৷ স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের কারণে ক্যামেরা ও লেন্সের ভেতর ছত্রাক বা ফাঙ্গস পড়তে পারে৷ ফাঙ্গাস বেশি পড়লে ছবিতে আলো-ছায়ার বৈপরিত্য বা কন্ট্রাস্ট থাকে না। ছবির তীক্ষ্ণভাব কমে যায়। সঠিক রং পাওয়া যায় না। লেন্সে ছত্রাক পড়ে গেলে তা পরিষ্কার করাতে হবে ভালো কোনো সার্ভিস সেন্টারে৷ ঘষা লেগে অনেক সময় লেন্সের ভেতরে স্থায়ী দাগ (স্ক্র্যাচ) পড়তে পারে। আবার আর্দ্রতার কারণে লেন্সের বিভিন্ন ধাতব অংশেও মরিচা পড়ে। এই মরিচা একে অন্যের সঙ্গে ভাববিনিময় করে। এর ফলে ইলেকট্রিক সার্কিটগুলোর পারস্পরিক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

  • আঘাত নয়ধুলাবালুও কম নয়


ধুলাবালু ক্যামেরার অন্যতম শত্রু। খোলা জায়গা বা ধুলা ওড়ে এমন জায়গায় লেন্স পরিবর্তন করা ঠিক নয়। লেন্স খোলার কারণে প্রথমে আয়না বা মিরর অংশে ময়লা ঢোকে৷ তারপর শাটার চাপলে সেন্সরে গিয়ে ময়লা জমা হয়। ফলে ছবিতে কালো কালো দাগ পড়ে যেতে পারে। অন্তত চার মাস পর পর সেন্সর পরিষ্কার করা উচিত। লেন্সের সামনে সার্বক্ষণিক ইউভি (অতি বেগুনি রশ্মি) বা এসএল (স্কাইলাইট) ফিল্টার লাগিয়ে রাখা ভালো। ফিল্টার মূলত আলোর ছাঁকনির কাজ করে। ফিল্টার লাগানো থাকলে লেন্সে ধুলাবালু ঢুকতে পারে না। কাজ শেষে লেন্স ক্যাপ লাগানো, আইক্যাপ বন্ধ রাখা এবং লেন্স হুড ব্যবহার কাজেরই অংশ।

  • তাপমাত্রা থাক স্বাভাবিক


স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ক্যামেরা ও যন্ত্রপাতি রাখা উচিত। অতিরিক্ত ঠান্ডা জায়গায় বেশিক্ষণ ক্যামেরা রাখা ঠিক নয়। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরে ক্যামেরা রাখলে লেন্সে জলীয়বাষ্প জমে। ফলে ভিউ ফাইন্ডার দিয়ে কিছু দেখা যায় না, ঝাপসা লাগে। সহজে ফোকাস হতে চায় না। জলীয়বাষ্প না শুকানো পর্যন্ত ছবি তোলা কঠিন। মানুষের সহ্য করার মতো গরম আবহাওয়া ক্যামেরার জন্য তেমন ক্ষতিকর নয়। তাই বলে অতিরিক্ত তাপমাত্রায়ও ক্যামেরা রাখা ঠিক নয়। বৈদ্যুতিক তার, ট্রান্সমিটার ও অগ্নিকাণ্ডের ছবি তোলার সময় নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে তোলা উচিত। আগুনের অতিরিক্ত তাপে লেন্সের প্রলেপ (কোটিং) ফেটে চৌচির হয়ে যেতে পারে। ফলে অপ্রয়োজনে আগুনের কাছে ক্যামেরা বাড়িয়ে ধরা বোকামি। অনেক সময় এটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্তও বটে৷

  • মনিটরে বাড়তি পর্দা লাগানো ভালোব্যাটারির চার্জ


নিয়মিত ব্যাটারি চার্জ করুন। চার্জ সম্পূর্ণ হলে খুলে ফেলুন। বেশি চার্জ অনেক সময় ব্যাটারিকে দুর্বল করে দেয়। ছয় মাস পর পর ব্যাটারি পরীক্ষা করা (ক্যালিব্রেট) উচিত। মেমোরি কার্ড খোলা, লেন্স পরিবর্তন বা ব্যাটারি পাল্টানোর ক্যামেরার সুইচ বন্ধ রাখতেই হবে৷ ব্যবহারের পর ফ্ল্যাশগানের সুইচও বন্ধ রাখা উচিত। ক্যামেরার মনিটরে স্বচ্ছ পর্দা লাগিয়ে রাখা ভালো। ভুলবশত এসএলআর ক্যামেরার সুইচ অফ না করাটা তেমন সমস্যা নয়। কিছু সময় পর পাওয়ার স্ট্যান্ডবাই হয়ে যায়। তবে কমপ্যাক্ট ক্যামেরার পাওয়ার অন থাকলে লেন্স বেরিয়ে এসে ক্যামেরায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। তাই কাজ শেষে কমপ্যাক্ট ক্যামেরার ব্যাটারি খুলে রাখা ভালো। উচ্চগতির কার্ড রিডার ও মেমোরি কার্ড ব্যবহারে কাজ হয় দ্রুত। মেমোরি কার্ড থেকে ছবি কম্পিউটারে নামানোর সময় অ্যান্টি ভাইরাস সফটওয়্যার দিয়ে কার্ড স্ক্যান করা উচিত।

  • ক্যামেরার কোথাও পানি লাগানো যাবে না ইচ্ছেমতো ভিডিও নয়


বেশির ভাগ ডিজিটাল ক্যামেরায় ভিডিও করার সুবিধা এখন আছে। তবে অপ্রয়োজনে ভিডিও করা ঠিক নয়। ভিডিও করলে ক্যামেরার শরীরে বাড়তি চাপ পড়ে। একটি পেশাদার ডিএসএলআর ক্যামেরায় টানা ১২ থেকে ১৫ মিনিট পর্যন্ত ভিডিও করা যায়। তারপর এটা বন্ধ হয়ে যায়। প্রয়োজন হলে কিছু সময় বিশ্রাম দিয়ে আবার ভিডিও করা যেতে পারে। ক্যামেরা ব্যবহার করতে গিয়ে মাঝে মাঝে ‘এরর’ দেখায়। এরর হচ্ছে ক্যামেরা বা লেন্সের অপারগতা প্রকাশ। এরর দেখায় মূলত ক্যামেরার সঙ্গে লেন্সের সংযোগ ঠিকমতো না ঘটলে৷ এ ছাড়া জুম করার সময় কখনো কখনো অ্যাপারচার নড়তে পারে না। তখনো এরর দেখাতে পারে। শাটারের সমস্যার কারণেও এরর দেখায়।

  • লেন্সের ক্যাপ খুব দরকারি ক্যামেরার আয়ু


শাটার কাউন্টের মাধ্যমে ডিএসএলআর ক্যামেরার জীবনকাল নির্ধারণ করা হয়। ধরুন, ক্যানন ১১০০ডি ক্যামেরায় দেড় লাখ পর্যন্ত ছবি তোলা যায়। অনেক সময় এই হিসাবের চেয়ে দুই-তিন গুণ বেশি ছবিও তোলা যেতে পারে। এরপর শাটার নষ্ট হয়ে যায়। এটা পরিবর্তন করলে আবার ঠিক আগের মতো কাজ করে। ফলে অহেতুক কন্টিনিউ মোডে শাটার টেপা ঠিক না। শাটার হচ্ছে পর্দার মতো। এটি মোটরে চলে। তবে পেশাদার ক্যামেরার শাটার অনেক মজবুত।

  • পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা


প্রতিদিন ব্যবহারের পর ক্যামেরা পরিষ্কার করে রাখা উচিত। কাজ শেষে না পারলে অন্তত পরের দিন বা ছবি তুলতে যাওয়ার আগে পরিষ্কার করা দরকার। মোছামুছির ব্যাপারটা প্রতিদিনকার রুটিনে পরিণত করতে পারলে ভালো। ক্যামেরার ব্যাগে সব সময় নরম কাপড়, ব্রাশ, ব্লোয়ার, টিস্যু পেপার রাখা যেতে পারে। ব্যাগের কোথাও একটু সিলিকা জেল রাখুন। লেন্স পরিষ্কারের জন্য লেন্স ক্লিনার ব্যবহার করা যেতে পারে। ক্যামেরার ব্যাগে এমনভাবে ক্যামেরা, লেন্স ও ফ্ল্যাশগান রাখা উচিত, যেন একটির সঙ্গে আরেকটির অতিরিক্ত চাপ না লাগে। যেমন-তেমন ব্যাগে ক্যামেরা বহন করা উচিত নয়। বিশেষভাবে তৈরি ব্যাগেই রাখতে হবে ক্যামেরা, লেন্স ইত্যাদি৷

  • আঘাত নয়


কোনো অবস্থাতেই ক্যামেরার গায়ে আঘাত লাগানো যাবে না। বাইরে থেকে আঘাত পেলে ভেতরের সূক্ষ্ম জোড়াগুলো নড়ে গিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। বাতাস ঢুকতে পারে না এমন বাক্স কিংবা ডেসিকেটরে ক্যামেরা রাখুন। বাক্সে সিলিকা জেল ব্যবহার করুন। এই জেল ছত্রাক থেকে ক্যামেরা ও লেন্সকে রক্ষা করে। সিলিকা জেল যখন জলীয়বাষ্প শোষণের ক্ষমতা হারায়, তখন এর রং বদলায়। একটি ক্যামেরা ও দুটি লেন্স রাখার জন্য কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার ডেসিকেটর প্রয়োজন। ডেসিকেটরে ক্যামেরা রাখা নিরাপদ। তবু মাঝে মাঝে বের করে ছবি তোলা দরকার। এতে ক্যামেরা সচল কি না, নিশ্চিত থাকা যায়।

  • ধুলাবালু সরাতে ব্লোয়ার ব্যবহার করা যায় আরও কিছু কথা


ছবি তোলার সময় হাতে ক্যামেরার বেল্ট পেঁচিয়ে নিন বা গলায় ঝুলিয়ে রাখুন। এতে ক্যামেরা মাটিতে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না। কোথাও ক্যামেরা রাখলে ধীরে-সুস্থে রাখুন, যেন চোট না লাগে।
লেন্স লাগানোর সময় জোরাজোরি করবেন না।

কাঁধে থাকার কারণে অনেক সময় বেল্টে ময়লা জমে। তাই লেন্সের সঙ্গে বেল্ট পেঁচিয়ে রাখবেন না।
শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

  • কাজ শেষে ক্যামেরা ব্যাগে ভরে রাখুন।


যেহেতু এটি একটি দামি যন্ত্র, তাই সাবধানে বহন করা উচিত। ক্যামেরা ও লেন্সের সিরিয়াল নম্বর এবং মূল কাগজপত্র যত্নসহ সংরক্ষণ করতে হবে। এতে খোয়া গেলে আইনি সহায়তা পেতে সুবিধা হয়।

পেশাদার আলোকচিত্রীদের উচিত ক্যামেরার বিমা করা।